Disclaimer: All the ideas presented are entirely figments of my imagination. In no way I am writing this to demean the beliefs of any person, or downplay any religion or country. I apologize in advance if it has hurt the sentiments of any and warn people to read this only if they feel like doing so.
প্র্রথম অংক:
প্রথম দৃশ্য:
(স্বর্গলোকে পাহাড়ে দেবাদিদেব মহাদেব আর মা দুর্গা)
দুর্গা: এই সাত সকালে বসে বসে ঝিমাচ্ছ! পারো বটে! কি কালকের নেশা এখনো নামেনি নাকি?
শিব: না, না, নেশা না, এই একটু ইয়ে মানে ধ্যান করছিলাম আর কি | সাত সকালে প্রাণায়ম, যোগ করলে শরীর সাস্থ ফুরফুরে থাকে কিনা! হেঁ হেঁ
দুর্গা: থামো দেখি ধ্যান করছিলাম…সাত কাল গিয়ে এক কালে ঠেকেছে এখনো মিনসে গপ্পো দেবার জায়গা পায়না…এদ্দিন ধরে ঘর করছি চিনিনা তোমাকে!
শিব (ঢোঁক গিলে): না মানে ইয়ে আরকি…
দুর্গা: ইয়ার্কি হচ্ছে, থামো আর মেলা কচ কচ করোনা! তোমায় যে বলেছিলাম মায়ের জন্যে স্পেশাল জামদানীর একটা শাড়ী আর বাবার জন্যে মখমলি ধুতি কিনে রাখতে, কিনেছ?
শিব: না মানে? নন্দী আর ভৃঙ্গী কে পাঠিয়েছি আনতে!
দুর্গা: বেশ হয়ে গেল তাহলে গুষ্টির তুষ্টি! ব্যাটা দুটো পাক্কা গাঁজা খেয়ে উড়িয়ে দিয়ে থাকবে সব টাকা! নাহ সবই দেখছি এখানে আমাকেই দেখতে হবে! আর পারিনা! কি কুক্ষণে যে মরতে তোমার সাথে বিয়ে করেছিলাম!
দ্বিতীয় দৃশ্য:
(কার্তিক আর সরস্বতীর প্রবেশ)
কার্তিক: সরু মেলা ফ্যাঁচ ফ্যাঁচ করিসনা!
সরস্বতী: দ্যাখোনা মা কার্তিক টা আমাকে বিরক্ত করছে!
দুর্গা: এই কেতো!
কার্তিক: মা ক্যাট নট কেতো!
শিব: ক্যাট! এত বিদেশি মেয়ের নাম লাগে শুনতে!
দুর্গা: মিনসের এদিক নেই ওদিক আছে! বিদেশি মেয়েদের নাম নিয়ে তো দেখছি পি.এইচ.ডি করে বসে আছো!
কার্তিক: পপস তুমি না সেই ওল্ড ফ্যাশনড রয়ে গেলে!
দুর্গা: থাম কেতো! কি হয়েছে মা?
সরস্বতী: মা এইবার দেশে গেলে আমাকে একটা এপেলের আই-প্যাড কিনে দিও না প্লিজ.
দুর্গা: কেন ওই দিয়ে কি করবি রে?
কার্তিক: কি আর করবে হয় কিন্ডলে বসে ই-বুক পড়বে নয়ত আই- টিউনস গান বাজাবে |
সরস্বতী: মা দেখোনা আবার!
শিব: এ কোন আপেল! ওটা খায় না মাথায় দেয়? আর সরু মা একটা আপেল খেয়ে আডাম আর ইভ-এর কি হল দেখলি তো! কেন আবার আপেল নিয়ে মারামারি করছিস!
সরস্বতী: আহ বাবা! তুমি না একেবারে টেকনোলজিক্যালি চ্যালেঞ্জড! ওটা একটা কোম্পানি! আর ওই আপেল বলছ, এদিকে আরেকটা আপেল নিউটনের টাকে পড়ার পর যে মাধ্যাকর্ষণ নিয়ে ভুরিভুরি তথ্য লিখে ফেললো ব্যাটা, তার জন্যে রাতারাতি কত ছাত্র আমার প্রতি আকর্ষিত হয়ে আমাকে হাউসহোল্ড নাম বানিয়ে ফেলল সেটা ভুললে হবে!
তৃতীয় দৃশ্য:
(লক্ষ্মী আর গণেশ-এর প্রবেশ)
লক্ষ্মী: মা আমার ল্যাপটপ টা দেখেছ? একটু ভাবছিলাম ব্লগ-এ নতুন ফিনান্সিয়াল টিপস গুলো আপডেট করে দিতাম |
শিব: হ্যাঁ মা তোর ওই কিসব ব্লগ না কি! ওতে আছে কি কি? আর ও কিকরে দেখে? আমায় একটু শিখিয়ে দিবি?
লক্ষ্মী: সে শেখানোর কি আছে! দেশের যা হাল টাকা তো উঠছে নামছে | কি করে স্টক এক্সচেঞ্জকে মুঠোয় রাখতে হয় তার টিপস আছে | লিঙ্ক খুব সহজ: বিচক্ষণপেঁচারট্যাঁকশাল.ভাগ্যুস্পট.কম | কিন্তু তুমি কি করবে ও দিয়ে?
শিব: না মানে নন্দী আর ভৃঙ্গীটা কিছু পয়সা হারিয়ে ফেলেছে, তাই ভাবছিলাম যে একটু আর কি টাকা খেলিয়ে যদি উসুল করা যায় |
দুর্গা: আ আ আ আ: হারিয়েছে না উড়িয়েছে গাঁজা তে! ওই দুটো নিষ্কর্মা অপদার্থ জুটেছে আর ইনিও এই আধ দামড়া বয়সে ধেই ধেই করে নাচতে নাচতে চলেছেন ওদের পিছনে |
সরস্বতী: মা আমাদেরতো যাবার টাইম হয়ে এলো, তুমি তোমার ক্রেডিট কার্ডের সব বিল মিটিয়ে দিয়েছ তো? নইলে আবার অকারণে ফাইন লেগে যাবে |
দুর্গা: ইসসস ভাগ্যিস বললি, এই আপদটাকে দিয়ে তো কোনো কাজই হবেনা | কি করি, বিলটাও তো এবার অনেক, সবার জন্যে গিফট কিনতে এই ইনফ্লেশনের যুগে তো চোখে সর্ষেফুল দেখছি |
কার্তিক: মা চিন্তা করোনা তোমার ক্রেডিট কার্ড নম্বর আর পিন টা দাও আমি অনলাইনে ট্রান্স্যাকশন করে মিটিয়ে দিচ্ছি সব |
দুর্গা: এই না হলে আমার সোনার টুকরো ছেলে যা বাবা!
(লক্ষ্মী, সরস্বতী আর কার্তিকের প্রস্থান)
গণেশ: মা এবার কিন্তু দেশে গেলে সব নতুন রেস্তোঁরায় যাব | আগে শুনেছিলাম বাঙ্গালীরা মুড়ি চপ খেতো – এখনতো আবার নাকি ঐটাই শিল্প, তারপর বিদেশি খাবার হিসেবে চিনে খাবার ঢুকল আর এখন নাকি টোটাল এফ.ডি.আই আসব আসব করছে বলে সব ফরেন খাবার পিৎজা, ম্যাকডোনাল্ডস, কে.এফ.সি !
দুর্গা: এই রে! বাবা তুই ওসব ছাইপাঁশ খাস না, যা হাই কোলেস্টেরল পরে হাঁসফাঁস করবি | অশ্বিনী ব্রাদার্স বলেছে না নোলাটা একটু সামলে!
গণেশ: (ভ্যা করে কেঁদে উঠে) সবাই আমার পিছনে হাত ধুয়ে পড়েছে! আমিতো ডায়েটে আছি |
দুর্গা: আহা কাঁদেনা সোনা আচ্ছা এক কাজ করব তোকে সব বুফে-তে নিয়ে যাব | দেখছিসইতো ইনফ্লেশন আর রিশেসনের চক্করে লক্ষ্মীর হাঁড়ি কলসী সবই কাবুলিওয়ালার কাছে বন্ধক! চ বাবা |
চতুর্থ দৃশ্য:
(গণেশ আর দুর্গার প্রস্থান, ভৃঙ্গীর প্রবেশ)
ভৃঙ্গী: প্রভু পেন্নাম হই |
শিব: আয়ুষ্মান ভব: | খুব জোর বেঁচে গেছিস আর এক মিনিট আগে এলেই দুর্গা তোর পিণ্ডি চটকে দিতো |
ভৃঙ্গী: আমিতো সেই কখন থিক্যা ওই ঝোপটার আড়ালে চুপটি কইরা লুইক্যা ছিলাম আর মশার কামড় খাইতাছিলাম | মারে যাইত্যা দেইখ্যা তবে বীরপুরুষ হইয়্যা বুক খান চিতায়ে ঢুকলাম |
শিব: বাহ! বল তোকে যে কাজটা দিয়েছিলাম তা হচ্ছে?
ভৃঙ্গী: হ্যাঁ প্রভু লাইগ্যা পড়সি | পূজা আসতেছে তো মা তো যাবেন গিয়া বাপের বাড়ি, তো এই খাইনা যে অনুষ্ঠানের লিগ্যা আপনি তৈয়ারী করত্যাছেন তার জন্য ৩৩ কোটি দেব গণরে মেল পাঠাইত্যাছি |
শিব (আশ্চর্যের সাথে): দেব-দেবী গণ বলরে…আজকাল জেন্ডার ডিস্ক্রিমিনেশন করলে মহা ঝামেলা হয়…যাই হোক এই মেল বস্তুটি কি জিনিশরে!
ভৃঙ্গী: আরে কত্তা আর কয়েন কেন, মত্ত লোক থিক্যা কিছু নতুন রিক্রুট হইছে এই স্বর্গলোকে | ব্যাটাগুলো আই.টি প্রফেশনাল | কয় কিনা বাড়ি বাড়ি গিয়া চিঠি দেওনের দিন গেছে গিয়া, তাই ইন্দ্র দেব রে বইল্যা একটা বিল পাস করায়ে স্বর্গলোকে ওয়ারলেস কমিউনিকেশন লাগায়ে অন্তর্জাল ঐ ব্যাটা কি কয় হ্যাঁ ইন্টারনেট লাগাইছে | তা আজকাল সব দেবতারাই এইটা ব্যবহার করত্যাছে, অনেক কাজে লাগে কত্তা | আপনিতো এই সবের ঊর্ধ্বে বলে খবর রাখেননা |
শিব: হুম! তা এই মেল না ফিমেল দিয়ে কি সব দেব-দেবী গণদের চিঠি পাঠানোর কাজ সমাপন হয়েছে?
ভৃঙ্গী: হ প্রভু এই মাত্তর সেণ্ড কইরা আইলাম |
শিব: সাধু, সাধু!
পঞ্চম দৃশ্য:
(হন্ত দন্ত হয়ে নন্দীর প্রবেশ)
নন্দী: পেন্নাম হই কত্তা ঠাকুর |
শিব: আয়ুষ্মান ভব | কি হল রে নন্দী? হাঁফাচ্ছিস কেন?
নন্দী: কত্তা বড় গোল হয়েছে!
শিব (নড়েচড়ে বসে): কেনরে কোন বলশালী অসুর আক্রমণ করল নাকিরে? কত দিন হয়ে গেল একটা যুদ্ধ হয়নি, বসে শুয়ে কোমরে জং ধরে গেল…
নন্দী: না কত্তা তার থিক্যাও গম্ভীর ব্যাপার দেখা দিসে…
শিব: কি হল খুলে বল!
নন্দী: কত্তা, মায়ের মর্তলোকে যাওয়া বোধ হয় ক্যান্সিল করতি হবে…
শিব (বসে থেকে দাঁড়িয়ে পড়লো): হ্যাঁ সেকি রে…কি বলছিস! কেন কেন?
নন্দী: আর কয়েন কেন কত্তা মহিষাসুর কইত্যাছে কিনা সে নন-ভায়োলেন্ট হইছে…ওই যে কিছুকাল আগে মত্ত্যলোক থিক্যা গান্ধিজীরে স্বর্গে প্রবেশ দিলেন, তার পর থেকেই ওই ব্যাটা কিনা সব দেবতা আর অসুরদের নন-ভায়োলেন্সের বাণী দিত্যাছে | মহিষাসুর তো তার পুরো দল লইয়া ওর চেল্যা হইছে, কয় কিনা, “আমি মারামারি ত্যাগ করলাম” |
শিব: গিয়ে ব্যাটাকে এক থাপ্পড় মেরে নিয়ে আয় |
নন্দী: সেকি করিনি কত্তা! এক গালে ঠাস কইরা এক খান রদ্দা বসায়ে দিলুম সাহস কইরা, দেখি কি ব্যাটা আরেক খান গাল বাড়ায়ে দিসে, কয় কিনা গান্ধীজী কইসে | মহা ঝামেলা কত্তা!
শিব: হুমম! এত বড় গোল | দুগ্যে মহিষাসুর বধ না করে মর্তে কি করে যাবে!
নন্দী: কত্তা এখানেই শেষ নয় |
শিব: আবার কি হল?
নন্দী: মায়ের সিংহ এঁড়ে বসেছে ঠাকুর | ব্যাটা কিনা কিছু বাঙ্গালী ইউনিয়নের পোলাপান দের দেইখ্যা ধর্মঘটে লাগছে | গলা ছিঁড়্যা ময়দানে সভায় বক্তৃতা দিত্যাছে… কয় কিনা এই জন্তুদের উপর অন্যায় অত্যাচার চলবনা…বিনা মাইনায় বেগার খাটানো চলবেনা | আবার ওই দলে সুরসুর কইরা মা সরস্বতীর হাঁস, কার্তিক ঠাকুরের ময়ূর, আর গণেশ ভাইয়ের ইঁদুর যোগ দিসে গিয়া! কয় কিনা আর কতকাল এঁটো কাঁটা ভোগের উপর বাঁচুম! শোনেন কথা এদের কত্তা!
শিব: দুর্গা জানে এসব? আর বাচ্চারা!
ভৃঙ্গী: না কত্তা খোকা বাবুরা তো দাদুর বাড়ি যাবার লিগ্যা তৈয়ারীতে লাগসে | কার্তিক ঠাকুরতো লক্ষ্মী মায়ের সাথে উর্বশী বিউটি পার্লারে মাঞ্জা দিতে গেছে গিয়া | মায়ের বোধ হয় ঐ বেলায় পার্লারে টাইম দেওয়া আছে | এক মাত্র গণেশ ঠাকুরই খাইয়্যা দাইয়্যা শুইয়্যা শুইয়্যা ল্যাদ খাইতেছে দেখলুম |
শিব: হুমম এত বড় গম্ভীর সমস্যা! ভৃঙ্গী তুই ওই মেল না কি বললি ওর দ্বারা সত্বর সব দেব-দেবী গণদের ইন্দ্রের সভায় আসতে বল | একটা আলোচনার খুবই দরকার |
ভৃঙ্গী: জে আজ্ঞে কত্তা |
(নন্দী ভৃঙ্গীর প্রস্থান)
শিব (চিন্তামগ্ন অবস্থায় উঠে দাঁড়িয়ে): যাই একটু দুর্গাপুরটা দেখে সভায় যাই |
দ্বিতীয় অংক:
প্রথম দৃশ্য:
(ইন্দ্র লাঠি হাতে পার্কে হেঁটে ফিরছে, দেখে সভার বাইরে থিক থিক করছে সব দেব দেবী গণ আর সবার মুখই বিষণ্ণ)
ইন্দ্র (শনি দেবকে): ভাই এই পুজোর বাজারে সব দেবতারাই যারপরনাই ব্যস্ত থাকে, তা সত্ত্বেও সবাই নিজেদের কর্ম ত্যাগ করে সভায় কেন উপস্থিত হয়েছে, এমনকি দেখছি ব্রহ্মা, বিষ্ণু, মহেশ-ও হাজির!
শনি: এই জন্য বলছি একটু টেকনিক্যালি আডভান্সড হও ইন্দ্র! এরকম চললে রাজ সিংহাসন যাবে তখন ফ্যা ফ্যা করে স্বর্গপুরীতে ঘুরে বেড়াবে! সাত সকালেই আজ ভৃঙ্গীর মেল এসেছে যে মায়ের আসন্ন বাপের বাড়ি যাবার যাত্রায় নাকি বিঘ্ন দেখা দিয়েছে এবং তার সমাধানের জন্য স্বয়ং নীলকন্ঠ একটি আলোচনার আসর ডেকেছেন |
ইন্দ্র (একটা ঢেঁকুর তুলে): আ: কি বল হে!
গেটের দারোয়ান: দেবগণ-দের রাজা ইন্দ্র দেব সভায় আগমন করছেন হ্যাঁচোওও…
অন্য দারোয়ান: কি হলরে?
প্রথম দারোয়ান: আর বলিসনা আজকাল যা ক্লাইমেট চেঞ্জ হচ্ছে পলিউশনের জন্য, ঠাণ্ডা গরমে সর্দি লেগে গেছে রে |
(ইন্দ্র গিয়ে সিংহাসনে বিরাজমান হলেন)
ইন্দ্র: মহাদেব একি শুনছি আমি!
শিব (চিন্তাময় মুখ তুলে): কি শুনলে! ও আচ্ছা হ্যাঁ ঠিকই শুনেছ | ভাই সকল আজ এই মহা কঠিন সময়ে আমাদের এক হতে হবে আর এর একটা বিহিত বের করতে হবে |
বিষ্ণু: ভগবান বলেন তো সুদর্শন চালিয়ে এক আধটা জন্তু জানোয়ার উড়িয়ে দি! ভয়ে বাকিরা সুড়সুড় করে মোর্চা ত্যাগ করে মায়ের টিমে যোগ দেবে!
নন্দী: হ ওই বাকি আছে! একে তো ব্যবহার না কইর্যা আপনার সুদর্শন চক্রে জং লাগছে, ওটা চালাতে গিয়া হাত কাইট্যা টিটেনাস বাধায়ে বসলে অশ্বিনী ভাইরাও বাঁচাতে পারবনা কইয়া দিলাম | আর আজকাল জানোয়ার মারা অত সোজা না দেব, ধরিত্রী থেকে অনেকে আইছে যারা কিনা একটা জন্তুর পালক পড়লেও ডান্ডা হাতে এমন তিড়িং বিড়িং করে যে ওদের প্রকোপে আপনাকেই না স্বর্গলোক ছাইড়্যা মরতে কল্কি অবতার নিয়ে পালাইতে হয়!
(বিষ্ণু কেমন মিইয়ে এক কোণে সিঁধিয়ে গেল)
ব্রহ্মা: যত নষ্টের গোড়া এই কলিকাল! লোকগুলো কেমন যেন সব কটা নচ্ছার তৈরি হচ্ছে, মর্ত্যে তো আমাদের দাম বিন্দু বিসর্গ নেই, খালি আমাদের নামে চাঁদা তোলা আর সেই পয়সায় ফূর্তি! আসল মনে কেউ ডাকেনা!
নন্দী: থামেন কত্তা! মানুষ সাপ্লাইয়ার ডিপার্টমেন্ট তো আপনার, তো কি করছেন! খালি রাশি রাশি মানুষ নামাচ্ছেন ভেবে দেখেছেন ধরিত্রীর কি অবস্থা! বসুন্ধরায় এখন সবুজ বলতে কিছুই নেই সবই কালো ধোঁয়া, এত মানুষ মরত্যাছে যে নরক ফুল হয়ে গেছে গিয়া! কত শতর আত্মা মরণের পর পৃথিবী আর নরকের মাঝে ত্রিশংকু হইয়া লটকাইয়া আছে খবর রাখেন? নেহাত নরকে এখন নো ভ্যাকেন্সি তাই লম্বা লাইন, নইলে ওই আত্মাদের-ও রিসাইকেল করে আবার ফেরত পাঠাতে হলে কাল ঘাম ছুইট্যা যাইত! আবার নরকেও কি সব ঘোটালা হচ্ছে!
(এই শুনে যমরাজ টুক করে পবন দেবের পিছনে লুকোতে যাচ্ছিলেন)
ভৃঙ্গী: কি যমরাজ নিজের নাম শুইন্যা লেজ গুটায়ে ধাঁ দিতাছেন! আপনাদের হিসাবের দপ্তরে কত গোল আছে আমি সবই দেখছি | এই আপনাদের সিস্টেম টাকেও অটোমেট করতে গিয়া ব্যালান্স শিট কত গোল আমি দেখত্যাছি | চিত্রগুপ্ত বুড়োতো ঘুষ খাইয়া যাকে নয় তাকেই স্বর্গে পাঠাইছে! কি ভাবেন কিছুই জানিনা! আর ইদানীং দেখত্যাছি আই.টি লোক গুইল্যা খুবই আসছে স্বর্গে, ওদেরতো খাতায় কোন উল্লেখ দেখিনা পাপের! ব্যাপারটা কি?
যমরাজ (আমতা আমতা করে): না মানে এতো লোক তাই মাঝে মাঝে একটু ভুল ত্রুটি হয় বইকি! তবে সিক্স সিগমা মেইন্টেইন করে চলেছি এখনো! একা হাতে কত সামলাব বল! একেবারে আত্মা তোলার থেকে, পৃথিবী থেকে নরকে ডেলিভারী, তারপর ওদের চরিত্রের বিশ্লেষণ, দণ্ড নির্ণয় তারপর ওদেরকে কাজে লাগানো! কম কাজ না প্রভু (শিবের দিকে তাকিয়ে) | তবে ওই যে আই.টি লোকেদের কথা বললেন ওরা কিন্তু প্রভু জীবনকালেই যে নরক ভোগ করে আসছে, যে ওদের ডাইরেক্ট স্বর্গে চালান করা হচ্ছে |
নন্দী: আর তেল নিয়ে যে স্ক্যাম চালাচ্ছেন!
ভৃঙ্গী: হ্যাঁ কোয়ালিটি চেকে গিয়ে দেখি প্রভু, সেই বস্তা পচা বাসি তেল দিয়েই আত্মাগুলোর চপ কাটলেট আর শিক কাবাব বানানো হচ্ছে! কড়াই গুলো ধোয়া হয়না, একেবারে নোংরা করে রেখেছে রান্না ঘরটা-কে, খুবই আনহাইজিনিক প্রভু |
যমরাজ: না মানে ইয়ে আসলে তেলের যা দাম ওই জন্যে রিসাইকেল করে চালাচ্ছি | এটা এনভাইরনমেন্টাল দিক থেকেও শ্রেয়, আর কস্ট কাটিং-এর যুগে পয়সা বাঁচানোর দিক থেকেও শ্রেয় | স্যার একটা সাস্টেইনেবিলিটির ওপর ব্ল্যাক বেল্ট প্রোজেক্ট করছি এই নিয়ে, খুব সেভিংস প্রভু, কুবের দেব অডিট করেছেন |
কুবের: ওই দেখো আবার আমায় জড়ানো কেন এর মধ্যে! তুমি বাপু রান্না ঘরের অডিট করাও |
যমরাজ: আরে যমলোক তো একদিনের জন্যেও বন্ধ করতে পারিনা তাই ঐ শিফট ওয়াইজ পরিষ্কার করা হয় কিন্তু এত ওয়ার্ক লোড আর ম্যান পাওয়ার এর অভাব যে একটু মাঝে মধ্যে নোংরা হয়ে যায় প্রভু, নইলে নো কমপ্লেন্ট স্যার!
শিব: আহ: ঠিক আছে, ঠিক আছে, এসব পরে আলোচনা করা যাবে | নিজেদের মধ্যে ঝগড়া না করে আমাদের এই সিরিসঙ্ক্রান্তির একটা বিহিত করতে হবে সত্বর তা নইলে ভীষণ মুশকিল |
কুবের: ভীষণ মুশকিলের আর বাকি কি আছে প্রভু! স্বর্গলোকে যে সব অপ্সরাদের আমরা মায়ের অবর্তমানে মচ্ছপ অনুষ্ঠানে মনোরঞ্জনের জন্য অগ্রিম বুকিং করেছিলাম, তারা এই খবরটা কোথ থেকে জেনে গেছে! আমাদেরকে পাঠানো ই-মেল তাদের কে কেউ লিক করে দিয়েছে |
নারদ: নারায়ণ, নারায়ণ |
নন্দী: ব্যাটা পাক্কা এই মিনসেটার কাজ! খালি এদিককার কথা ওদিকে আর ওদিককার কথা এদিকে!
শিব: শান্ত হও নন্দী! তা কুবের কি বলছিলে তুমি?
কুবের: কি আর বলব প্রভু সবাই অনুষ্ঠানের কন্ট্রাক্ট নিয়ে এসে পয়সার দাবি করছে | এরকম চললেতো আমায় লাল বাতি জ্বেলে পায়ে হেঁটে লংকায় যেতে হবে | এখনতো আমার ভ্রাতা রাবণ ও ওখানে নেই, শুনেছি নাকি ওর থেকেও দুষ্কর লোক ওখানে আছে এল.টি.টি.ই না কি নাম…খুবই বিপাকে পড়েছি প্রভু!
ইন্দ্র: আমি বলছিলাম কি প্রভু বলেনতো স্বর্গলোকেও মর্তলোকের মত ই.এস.এম.এ লাগিয়ে দেব, যাতে করে সিংহরাজ আর মহিষাসুর ব্যাটাকে ধরে যম রাজের স্পেশাল সেল-এ সাপ্লাই দিয়ে আচ্ছা করে আড়ং ধোলাই দেওয়া যায়!
শিব: এতে হিতে বিপরীত হবে ইন্দ্র | মহিষাসুর কে বাঁচাতে যদি তার গুরু মোর্চায় বসেন তাহলে কিন্তু আমাদের নাভিশ্বাস উঠবে | তার ওপর জগত থেকে এতসংখ্যক লোক আমদানি হচ্ছে স্বর্গে যে যে কোন বিষয়ে একটা ধর্মঘট লেগে যেতে পারে স্বর্গে | তাই সিংহের হাজতবাস না আমাদেরকেই বিপদে ফেলে |
সকলে সমস্বরে: তাহলে উপায়!
শিব (খুব চিন্তার সাথে এক গ্লাস সোমরস পান করে): ইউরেকা, ইউরেকা!
ভৃঙ্গী (নন্দীকে কানে কানে): প্রভু সকাল থেকে নেশা ভাং করেননি বলেই এত ক্ষণ ঝামেলাটা পাকা আমের মত ঝুলে ছিল তা নইলে কখনই কেস সলভ হয়ে যেতো রে |
শিব: নো টেন্সন! এবার থেকে দুর্গা ন্যানো করে বাপের বাড়ি যাবে | আর কতকাল এতটা রাস্তা সিংহের ওপর ঠেঙিয়ে যাবে! আর ন্যানোর জাঁক জমকে মহি ব্যাটার দমনও লোক ভুলে যাবে |
সবাই সমস্বরে: সাধু, সাধু!
তৃতীয় অংক:
প্রথম দৃশ্য:
(স্বর্গলোকের আসমান টি.ভি তে এখন অব্দি প্রোগ্রামের হোস্ট বৃহষ্পতি)
বৃহষ্পতি: আপনারা দেখছেন এখন অব্দি | আমাদের বিশ্বস্ত সূত্রের দ্বারা আমরা জানতে পেরেছি যে মা দুর্গা এবার এক অভিনব রূপে বাপের বাড়ি যাবেন | আমাদের রিপোর্টার জগন্নাথ মহাদেবের সাথে আছে, হ্যাঁ জগন্নাথ মায়ের বাহন সম্পর্কে কিছু জানা গেলো?
জগন্নাথ (গলায় মাইক ঝুলিয়ে শিবের সাক্ষাত্কার নিচ্ছে): প্রভু এটা কি সত্যি যে মা এবার ন্যানো করে যাবেন মর্তে?
শিব: হ্যাঁ এখন এই বিষয়টা পাকা হয়নি, বিল টা আপার হাউসে অনুমোদনের জন্যে গেছে | আমার ইচ্ছের কথা শুনে এদিকে মহিষাসুর আর সিংহ দুজনেই আমার সাথে আলোচনায় বসতে চেয়েছে | দেখি আলোচনার ফল বিরূপ হলে দুর্গা এবার ন্যানো তেই যাবে |
জগন্নাথ (ফিসফিস করে): প্রভু একটু পিঠ তা চুলকে দিন বড্ড চুলকাচ্ছে |
(শিব ত্রিশূল দিয়ে একটু চুলকে দিল. লাইভ টেলিকাস্ট তখনই হটিয়ে দেওয়া হল)
বৃহষ্পতি: আমাদের সম্প্রসারণে কিছু গোলযোগ হয়েছে | দেখতে থাকুন আমাদের সাথে মায়ের বাপের বাড়ি যাত্রা | আগে কি হবে দেখব হাম লোগ |
দ্বিতীয় দৃশ্য:
(শিব আর মহিষাসুর মিটিং-এ)
মহিষাসুর: স্যার এই কান ধরত্যাছি, বাম্পার মিস্টেক হয়ে গেছে | এ যাত্রা মাফ কইরা দ্যান | আসলে ঐ বাপুজির বচন শুইন্যা একটু ইয়ে হয়ে গেছিলাম আরকি | কিন্তু এরকম করলে ত স্যার কেউ মনে রাখবে না আমায়! আর নাম যশ না থাকলে এই বয়সে কি করে খাব স্যার? একটু ভেবে দেখুন |
শিব: হুমমম, তা এরকমটি আর হবে নাতো?
মহিষাসুর: না স্যার এই নাক খত দিচ্ছি, কনতো এবার মা যখন বুকে ত্রিশূল ঢোকাইবেন তখন দাঁতটা না খিঁচিয়ে একটা ১,০০০ ভোল্টের হাসি দিমু | কিন্তু এরকম ভুল আর হইবনা স্যার |
শিব: ঠিক আছে তুমি যাও আমি তোমায় জানাব |
তৃতীয় দৃশ্য:
(মহিষাসুর আস্তে আস্তে উঠে প্রস্থান করল, আর সিংহ দরজা দিয়ে উঁকি মারল)
সিংহ: মিউউ…হুমমম…হালুম, মানে কর্ত্তার জয় হোক |
শিব: এসো হে সিংহ মহারাজ |
সিংহ: কি যে বলেন কর্ত্তা, আমি আবার কোথাকার মহারাজ!
শিব: বাবা সেকি তুমিতো বড়সড় নেতা হয়ে গেছো হে |
সিংহ: কেন লজ্জা দিচ্ছেন কত্তা | ভুল মানুষ মাত্রেই হয় আর আমিতো সাধারণ জন্তু | এ যাত্রা ছেড়ে দিন তা নইলে না খেতে পেয়ে মরব কত্তা | পুজোর ভোগ না চড়লে এ চেহারা বজায় রাখা দায় হবে প্রভু (বলে শিবের পায়ে পড়ে গেল সিংহ) |
শিব (একটু দূরে সরে গিয়ে): আহ: থাক, থাক, ঠিক আছে যা ক্ষমা করে দিলাম এ যাত্রা |
চতুর্থ অংক:
প্রথম দৃশ্য:
(স্বর্গলোকের আসমান টি.ভি তে এখন অব্দি প্রোগ্রামের হোস্ট বৃহষ্পতি)
বৃহষ্পতি: আপনারা দেখছেন এখন অব্দি | তাজা খবরের অনুসারে মহিষাসুর ক্যাম্প আর সিংহ ক্যাম্প নিজেদের ধর্মঘট তুলে নিয়ে মায়ের সাথে যাত্রায় সম্মতি জানিয়েছে | তাই মায়ের যাত্রা প্রতি বছরের ন্যায় এ বছর একই ভাবে হবে | এতে সমগ্র দেবতাগণ খুবই আহ্লাদিত | জয় দুর্গা মাইকি জয়! এই জগা আমার পার্টি ড্রেসটা বের কর আর গান বাজা:
হরি হে দীনবন্ধু তুমি আমারও বন্ধু বাপেরও বন্ধু |