টেস্টিমোনিয়াল

রাণী লক্ষ্মীবাই’কে দেখিনি তো আমি…

তবে ইনি কম জাননা জানেন অন্তর্যামী…

কিল, লাথি, চড়, ঘুসি সবই এনার অস্ত্র…

দেখলে তারে সব লোকে হয়ে যায় ত্রস্ত…

হাসি দেখে কেউ যেন হয় নাকো বোকা…

আসলে এসবই কিনা মানববাদী ধোঁকা….

যাই হোক হল তো অনেক ঠাট্টা,

জানিনা খেতে হবে ক ডজন গাঁট্টা…

আসল কথা বলছি শোনো চুপটি করে বসে…

এরম বন্ধু কমই পাবে জীবনকালের শেষে…

সুখে, দু:খে সর্বদাই আছে সে তোমার সাথে,

চোখের জলকে নিমেষে সরিয়ে পারে সে হাসাতে…

বন্ধু তুমি থাকো এমন সারাটা জীবন,

সবার জীবনে আনো তুমি এক নতুন আলোড়ন…

যাই হোক আর কত গ্যাস দেবো ভেবে নাহি পাই…

তাই লেখা শেষ করে এবার বাড়ি যাই…!!!

কোথায় গেলো

কোথায় গেলো করমচাঁদ
হম লোগের অশোক কুমার
এখন খালি শ্বাশুড়ি বউ
একসে বড়কর এক চামার

কোথায় গেলো ডাক টেলস
প্লেনে চড়ে বালুর ঘোরা
এখনতো সব পোকেমন
মারদাঙ্গা রক্তে ভরা

কোথায় গেলো হোনি-আনহোনি
মায়ের আঁচলে মুখ ঢাকা
এখন কারোর সময় কই
দেখতে হলে তুমি একা

কোথায় গেলো ছুটি ছুটি
কার্টুন, সিনেমা, গানের মেলা
এখনতো খালি রিয়েলিটি শো
নয়ত দেখা ফিক্সড খেলা

কোথায় গেলো অক্সফোর্ড ডিকশনারি
রেন এন্ড মার্টিনে গ্রামার করা
এখনতো শুধু মোবাইল দিয়ে
ইন্টেরনেট থেকে নকল মারা

কোথায় গেলো সুচিত্রা উত্তম
বাইক চড়ে গান গাওয়া
এখনতো সবই হাইটেক
অহরহ চুমু খাওয়া

কোথায় গেলো সেই মাঠে খেলা
ছোটাছুটি ঘুড়ি হাতে
এখন সবাই ঘরের কোণে
কম্পিউটার নিয়ে আছে মেতে

কোথায় গেলো কাগজের নৌকা
লেবু লজেন্স, আমের আচার
এখন সবাই হাইজিন প্রিয়
তাও অসুখেতে হয় জেরবার

কোথায় গেলো সেই রাসের মেলা
নাগর দোলায় চরকি খাওয়া 
এখনতো খালি চরকি নাচন 
ছুটির দিনেও অফিস যাওয়া

কোথায় গেলো সেই শিশুকাল
রাস্তার মোড়ে ফুচকা খাওয়া
এখন খালি ছোটাছুটি
পিছন পানে শুধুই চাওয়া

কোথায় গেলো মেঠো সে পথ 
সবুজ দিয়ে ঘেরা
সেই পথেতে এই জীবনে আর 
হবেনা যে ফেরা

ছোট্টবেলার দিনগুলো আর 
আসবে নাকো ফিরে
ফিরবে না এ জীবন তরী

ছেলেবেলার তীরে

ভালোবাসি

চোখ বুজে তোমায় পাই মনের মাঝে

চোখ খুলে দেখি তুমি আছো পাশে

হাজার দু:খেও তোমার মুখ যেই পড়ে মনে

সব চিন্তা সেঁধিয়ে যায় মনের কোন কোণে

তোমার সেই মিষ্টি মুখের দুষ্টু হাসি দেখে

ইচ্ছে করে লুকিয়ে রাখি জগতের চোখ থেকে

গরম কালে শীতল হাওয়ার মত তুমি চলো পাশে

তোমার অশ্রু যেন বৃষ্টি আনে সব মরু আকাশে

যদি হতাম দুষ্টু হাওয়া খেলতাম তোমার চুলের মাঝে

বা ভাঙ্গা ঝাড়ু তোমার ঘরের, নাই বা লাগি কাজে

তোমার চোখের ঝিলিক দেখে হাসি মুখে আসে

সারাদিন দেখব তোমায় চুপটি করে বসে

বাতাসেতে তোমার সুবাস মাতাল মোরে করে

তোমার রূপ যেন সূর্যোদয় ঠিক সেই ভোরে

তোমার কথা ভাবলে পরে কবি হয়ে যাই

একটি ঝলক দেখব বলে কতই না ফন্দি বানাই

জানিনা তুমি বুঝবে কিনা এই কথাটি শেষে

আমার জীবন কাটবে খালি তোমায় ভালবেসে!!!

পয়লা বৈশাখ

পাখা চলে খ্যাঁচ খ্যাঁচ

ঘামে গা ম্যাজ ম্যাজ

তবুও মন কিসের আশায়

খালি ভাবে তারে কে পায়

আসছে দেখো নতুন বছর

নতুন জীবন নতুন খবর

বাঙ্গালীর আরেক পার্বণ

আনন্দ করার নতুন কারণ

সেই আনন্দে আছি বসে

পয়লা বৈশাখ আসবে শেষে!!

ঘোড়েলপুরের ঘোড়েলগিরি

(১)
সকাল থেকেই আজ যেন সব কিরকম গড়বড় হচ্ছে ভজহরি ঘোড়েলের | ভজহরি ঘোড়েলরা এক সময়ে এই ঘোড়েলপুরের জমিদার ছিলেন | সময়ের সাথে জমিদারী গেছে আর সেই প্রতিপত্তিও নেই | ঘোড়েলবাবু বিপত্নীক, জমিতে চাষ করিয়ে চলে যায় | এক ছেলে লেখাপড়া করে শহরে থাকে, গ্রাম বা জমি জায়গার ওপর তার কোন আসক্তি নেই |
তাই এই বয়সেও ঘোড়েলবাবুকেই সব সামলাতে হয় | তাই সারাক্ষণই চিন্তায় থাকেন আর মুখে হাসি নেই | গ্রামের লোকেরা তার এই রূপই জানে | তিনিও এই রূপ নিয়ে বেশ আনন্দে আছেন | কিন্তু আজ সকাল থেকেই হয়েছে যত গোল, ঘুম থেকে উঠতে গিয়েই কে যেন কাতুকুতু দিয়ে দিল | ব্যাস হাসতে হাসতে ঘোড়েলবাবু প্রায় বিছানা থেকে উল্টে পড়ছিলেন, কোনক্রমে নিজেকে সামলে নেন | কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হল ঘরে কেউ নেই, থাকার কথাও নয় | খেন্তির মা দিনে দুবার আসে রান্না বান্না আর ঘরের বাকি কাজ করে দিতে ব্যাস |
সকাল থেকে এই নিয়ে দশবার তাকে কেউ সুড়সুড়ি দিয়ে হাওয়া হয়ে যাচ্ছে | ঘোড়েলবাবু তাই ভীষন চিন্তিত | অনেকবার “কে কে” করেও সাড়াশব্দ মেলেনি | পুলিশে খবর দিয়েও লাভ নেই | এ নিশ্চয় তেনাদের কাজ আর তাদের ধরে কার সাধ্য! তার ওপরে থানার দারোগা বীরবিক্রম গড়াই আবার এই সবে বিশ্বাস করেননা | তিনি না শেষে ঘোড়েলবাবুকেই ফাটকে আটক করেন |
গড়াই দারোগা আদতে ভারি অমায়িক ব্যক্তি | তিনি আসার পর থেকে ঘোড়েলপুরে কোন রকম অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি | আগেও যে কখন কিছু ঘটেছিল সেই বিষয়ে কারোর জ্ঞান নেই | পাড়ার বয়োজ্যেষ্ঠো টেঁপা দাদু, যার বয়স কিনা এখন ১৭৫ বছর, তিনিও মনে করতে পারেননা কোন রকম অপ্রীতিকর ঘটনা |
যাই হোক তাও পাড়ায় গড়াই দারোগার ভীষণ নাম ডাক | তাকে দেখতে অনেকটা সাপের বীণের মত | ছোট্ট গোল মাথা তার নিচেই শরীর শুরু | উচ্চতা নেই নেই করেও ৫’৫” তো হবেই | তবে এই সরকারী কাজের চাপে ওনার মধ্য প্রদেশের মেদ কোষগুলি ভারতের জনসংখ্যার মতো একটু বেড়ে উঠেছে এই যা | পাড়ার লোকেরা কখনো সব্জি, কখনো দীঘির মাছ এই সব দিয়েই গড়াই বাবুর এই হাল করেছে | তাতে কারোর কোন আক্ষেপ নেই |
খেন্তির মা তো ভজহরিকে হাসতে দেখে জিজ্ঞেসই করে ফেলল, “কত্তা শরীরখান ভালো আছে তো? দেখে তো ঠিক ঠেকতেছেনা! ডাক্তার অবনী পোদ্দারকে ডাকবো?” 
যখন দুপুর গড়িয়ে সন্ধে আর ভজহরি হেসে হেসে নাজেহাল তখন অনেক কষ্টে ভজহরি জোর করে জিজ্ঞেস করল, “আপনি কে প্রভু? দয়া করে বলে দিন!”
বোধহয় ভজহরির হাসতে হাসতে বেরিয়ে আসা চোখের জলের প্রতি মায়া করে এবার তেনার উত্তর এলো ।
“আমি তোর পিতামহ জটিলেশ্বর ঘোড়েল | তুই সব সময় এরকম বিষন্ন বদনে থাকিস, এ আমার মোটেই পছন্দনা | তার ওপরে এই ঘোড়েলপুরে এক মহা সঙ্কট আসতে চলেছে তাই আমাকে আসতেই হল!”
ভজহরি কিরকম ভ্যাবাচাকা খেয়ে থম মেরে গেল, আর সাথে সাথে এক কোমরে খোঁচা খেয়ে আবার হাসতে লাগল |

(২)
বিপিন চাকলাদার গাঁয়ের স্কুলের প্রধান শিক্ষক | তাঁর জ্ঞান আর উপস্থিত বুদ্ধি সবাই মেনে চলে | তাই গ্রামে কোন অসুবিধে হলে লোকে প্রথমে তার কাছেই ছুটে আসে পরামর্শ নিতে |
আজ বিপিন বাবুর স্কুল থেকে ফিরতে একটু দেরি হল | সামনে পরীক্ষা বলে সব কাজ সেরে আসতে হল | এসে কাপড় ছেড়ে গা হাত পা ধুয়ে মুড়ি চিনি আর জলে ভেজানো বাটিটা হাতে দাওয়ায় বসলেন | আসলে দুপুরে নোলা সামলাতে না পেরে পাড়ার বংশীর দোকান থেকে আনা চারটে ফিশ ফ্রাই সাঁটিয়ে দিয়েছেন | আর তারপর থেকেই পেটটা কিরকম আনচান করছে |
ঠিক এই সময়ে রাখালের মা হন্তদন্ত হয়ে সদর দরজা দিয়ে ঢুকল, “বিপিনবাবু আছেন?”
“কি হলোরে রাখালের মা?”
“কত্তা রাখাল যে এখনো বাড়ি ফিরল না!”
“সেকিরে স্কুল তো বিকেলেই ভেঙ্গেছে আর সবাইতো যে যার বাড়ির দিকে রওনা দিল | ওর বন্ধুদের জিজ্ঞেস করেছিস?”
“হ্যাঁ কত্তা সবাই কইল আজ নাকি বিকেলে ও ওই ঘোড়েলদের ভুতুড়ে বাড়িটার রাস্তায় গেছল | শুনেতো আমার বুক আইঢাই করছে!”
“আচ্ছা চল দেখি গড়াই দারোগা কে ধরি গিয়ে |” এই বলে বিপিনবাবু ফতুয়াটা গায়ে দিয়ে বেড়িয়ে পড়লেন থানার উদ্দেশ্যে |
থানায় পৌঁছে দেখেন যে গড়াই দারোগা  নেই | ফটিক হাবিলদার চেয়ারে বসে টেবিলে পা তুলে ঢুলছে | বিপিন বাবুদের দেখে সে উঠে বসল |
“কি হল স্যার? আজ এইখানে”, ফটিক বিনয়ের সাথে বলল |
বিপিন বাবু, “এই দেখনা ফটিক, রাখালকে বিকেল থেকে পাওয়া যাচ্ছেনা | গড়াই বাবু কোথায়?”
“আজ্ঞে তিনিতো আশে পাশের ৫ টা গাঁয়ের সব দারোগাদের একটা মিটিং আছে তাতে গেছেন | আজকাল নাকি বাকি গাঁ গুলোতে ছেলে ধরার খুব উপদ্রব বেড়ে গেছে | সেই নিয়ে কথা বলতে |”
শুনেই রাখালের মা ভ্যাঁ করে কেঁদে উঠল | “ওগো আমার রাখালকে ছেলে ধরায় ধরলো গো! আট বছরের ফুটফুটে ছেলে কার কি খেতি করল গো!”
“এই কাঁদিসনা”, বিপিনবাবু রাখালের মাকে ধমকে উঠলেন বটে কিন্তু তার মনেও একটা অজানা আশঙ্কা ঘর করে নিয়েছিল | “ফটিক তুমি বরং একটা অভিযোগ লিখে নাও আর গড়াই বাবুকে বোলো আমি এসেছিলাম |”

(৩)
ন্যাপা সর্দারেরা আসলে পুরুষানুক্রমে ঘোড়েলদের দারোয়ান ছিল | এই যুগে ঐ সবের ল্যাটা চোকায় সে একটা আখড়া দিয়েছে | সে যেমন লম্বা তেমনই চওড়া (যদিও কাঁধের থেকে উদরটাই দ্রষ্টব্য) | দিনে নাকি ১২ লিটার দুধ দিয়ে তার প্রাত:রাশ হয় |
সে শখের দরুন পাড়ার পঞ্চ ক্রিকেট ক্লাবের কোচিং করে | সামনের সপ্তাহে ঘোড়েলপুরে বনাম চমকাহাটির ফাইনাল ম্যাচ | এই বার্ষিক ক্রিকেট প্রতিযোগিতার শুরুটা ঘোড়েল পরিবারই করেছিল | এখন এটা মান মর্যাদার লড়াই | আশে পাশের সব গ্রামই এতে নাম দেয় | কিন্তু এই চমকাহাটির সাথে ঘোড়েলপুরের একটা দ্বন্দ্ব লেগেই থাকে | বিশেষ করে চমকাহাটির মান্তু সিং যবে থেকে এম.এল.এ টিকিট পেয়েছে তবে থেকে যেন ব্যাপারটা আরো জোরদার |
গতবার তো ফাইনালের সময় মান্তু সিং নিজে ছিলেন চিফ গেষ্ট | সব খেলোয়ারদের লেবুর জল আর খগেন ময়রার তৈরি জিলিপি আর খাস্তা কচুরি দেওয়া হয়েছিল | আর চমকাহাটির সব প্লেয়ারকে একটা করে টি-শার্ট | সেই বার তো জেতা ম্যাচটা ঘোড়েলপাড়া হেরে যায় শুধু মাত্র পাড়ার আম্পায়ারদের চোট্টামোর জন্য | ঘোড়েলপাড়ার স্টার ব্যাটসম্যান পচাকে কিনা এল.বি.ডব্লু দিল যখন বলটা ব্যাটে লেগেছিল | তাই এবার থেকে একটা নিউট্রাল আম্পায়ার থাকবে |
কিন্তু গতবারের চমকাহাটির আয়োজনের টেক্কা দিতে হবে | তাই এবার ক্লাব কমিটির ফাণ্ড থেকে টাকার বন্দোবস্ত হয়েছে | পাড়ার “মা কালী মিষ্টান্ন ভাণ্ডার” তো প্রেস্টিজ ইস্যু বানিয়ে জিলিপি, কচুরি আর সাথে বোঁদে দেবে বলে জানিয়েছে |
গড়াইবাবু হবেন চিফ গেষ্ট | পটলডাঙার নামী ক্রিকেটার গজধর যে কিনা এস.এ.আই-এ একটা ম্যাচ খেলেছিল সে হবে নিউট্রাল আম্পায়ার | ট্যাঁপা দাদু যে কিনা ইংরেজদের সাথে ক্রিকেট খেলেছিল সে হবে আরেকটি আম্পায়ার | ছেলেদের ট্রেনিং চলছে অবিরাম | এবারে কাপটা ফিরিয়ে আনতেই হবে |
ন্যাপা সর্দার এরকম হাজার চিন্তা মাথায় নিয়ে ক্লাব থেকে ফিরছিল যখন সে বিপিন বাবু আর রাখালের মাকে থানা থেকে আসতে দেখল | “আরে বিপিন স্যার যে!” এক গাল হেসে ন্যাপা ঠক করে একটা পেন্নাম ঠুকে দিল | “এই অসময়ে এদিকে কি মনে করে?”
“ন্যাপা ভাই আর বলিসনা রাখালকে নাকি সন্ধ্যের থেকে পাওয়া যাচ্ছেনা | আর এদিকে নাকি কোন ছেলেধরার উপদ্রব শুরু হয়েছে | তোর ছেলেদের একটু সামলে থাকতে বলিস”, বিপিন বাবু আর কথা না বাড়িয়ে এগিয়ে গেলেন | 
ন্যাপাও একটুক্ষণ থ মেরে দাঁড়িয়ে থেকে আবার টি-শার্ট জোগাড়ের কথা ভাবতে ভাবতে বাড়ির দিকে এগিয়ে গেল |

(৪)
বামা খ্যাপা সন্ধ্যে হলেই ঝন্টুর মুদির দোকানের পাশে বসে থাকে | বামা যে কোথাকার কেউ জানেনা | কিছুদিন হল এই পাড়ায় এসেছে | সারাদিন এগাঁ সেগাঁ ঘোরে | আর যে যা দেয় তাই খেয়ে পড়ে থাকে |
আদতে পাগল হলেও খুব দর্শনের কথা বলে | এইতো সেদিন ভগবানের সাথে একটা ওয়্যারলেস কমিউনিকেশন স্থাপন করলে তার উপকারীতা নিয়ে বিপিন বাবুর সাথে আলোচনা করতে গেছিল | প্রাগৈতিহাসিক যুগে মানুষরা এত লম্বা চওড়া আর এখন এত ছোটোখাটো কেন হচ্ছে, এর পিছনে প্রকৃতির কি হাত আছে! পৃথিবীর জায়গা সীমিত আর মানুষ কীট পতঙ্গের ন্যায় যে হারে বেড়ে চলেছে, যে ছোটো না হলে জায়গায় কুলাবে না | এই বিষয়টাও বামার মাথায় অনেক দিন ধরে ঘুরছিল |
ঝন্টুর দোকান থেকে ঘোড়েল বাবুকে বেড়োতে দেখে তাই সে টপ করে এই প্রসঙ্গটা পেরে ফেলল | ঘোড়েল বাবু কথাটা শুনে রসগোল্লা ঢোকানোর মতো একটা বিশাল হা করে বিস্ময়ের সাথে বামার দিকে তাকালেন (হয়তো মনে মনে বামার উর্বর মস্তিষ্কের তারিফ করছিলেন) আর সাথে সাথেই কোমরে একটা খোঁচা খেয়ে হেসে উঠলেন | বামা যেন একটু কুপিত হয়ে বলল, “কত্তা না হয় আপনার প্রসঙ্গটা যুক্তি সঙ্গত মনে হয়নি, তাই বলে হাসবেন! এরকম অবিশ্বাস করলে কি আমাদের ভোলা ঘটকের ছেলেটা দশ বারের বার মাধ্যমিক পাস করতে পারত?”
ঘোড়েল বাবু আর কথা না বাড়িয়ে এগিয়ে গেল | তার মাথায় একটাই চিন্তা, গায়ের কি অমঙ্গল আসতে চলেছে!
এদিকে বামাও তার এক মুখ দাড়ি চুলকাতে চুলকাতে আইনস্টাইনের কোন থিওরি নিয়ে চিন্তায় মগ্ন হল |

(৫)
ভজহরির চিন্তা আরো বেড়ে গেছে, যদিও তার মুখে সর্বদাই হাসি | চিন্তার কারণও খুঁজে পাওয়া গেছে | গত সপ্তাহে পাড়ার থেকে তিনটি ছেলে উধাও | পিতামহকে জিজ্ঞেস করলেই বলেন, “বলব বলব ঠিক সময়ে বলব |”
গড়াই দারোগা বাড়ি বাড়ি গিয়ে সবাইকে সাবধান করে এসেছে যেন কেউ সন্ধ্যের পরে  না বের হয় |
এদিকে চমকাহাটির সাথে ফাইনালের দিন এসে গেল | গাঁয়ে সেদিন হুলুস্থুল ব্যাপার | সবাই সারে সারে গ্রামের মাঠে এসে হাজির | পাড়ার টিম নব রং কারখানার সেলস ম্যান-দের টি-শার্ট পেয়েছে | তাই পরেই মাঠে নেমেছে |
পচা টস করতে গেল | গজধর কয়েন দেখিয়ে টস করল | পচা হেড বলে আর চমকাহাটির ক্যাপ্টেন বিশু টেল | আর ঘোড়েলপাড়ার টস জিতে যায় আর ব্যাটিং নেয় | সেই শুনে যা উচ্ছাস যেন তারা ম্যাচ জিতে গেছে | মাইকে ক্রমাগত কমেন্ট্রি হচ্ছে | কমেন্টেটর ভোলা ঘটক যে কিনা যাত্রা দলে প্রধান চরিত্রে পাঠ করে | সে তো শুরুতেই একটা গড়াই বাবুর ইন্টারভিউ নিয়ে নিল আর গ্রামের সবাইকে ছেলেধরার থেকে সাবধান করে দিল |
বামা ক্ষ্যাপাও কোত্থেকে মাঠে এসে হাজির | সে ট্যাঁপা দাদুকে দেখেই বলেছিল, “আজ পচাকে বলবেন যেন গোলকিপারকে গোলপোষ্টের পিছনে দাঁড়াতে বলে যাতে করে ব্যাটসম্যান এগিয়ে এসে মারতে না পারে |” ট্যাঁপা দাদু একবার তির্যক নজরে বামাকে দেখে আম্পায়ারিং করতে চলে যায় |
খেলা শুরু হয়ে যায় | আজকে পচা যেন সৌরভ হয়ে উঠেছে | যা মারছে ৪ নয়ত ৬ | ১৫ ওভারের শেষে ঘোড়েলপাড়ার স্কোর হল ১২০ | পচার তার মধ্যে হাফ সেঞ্চুরি |
সবাই খুব খুশি কিন্তু ন্যাপা সর্দার বলে গেল এইটা সবে যুদ্ধের শুরু | এখন আমাদের ওদেরকে বল করে আটকাতে হবে | বিশেষ করে বিশুকে সে গতবার ৪৫ রান নট আউট খেলে ম্যাচ জিতিয়েছিল |
ভোলা ঘটকের ছোট ছেলে প্রথম ওভার করতে গেল | প্রথম বলেই বিশুকে কট বিহাইণ্ড করল | সবাইতো আনন্দে লাফিয়ে উঠল | বামার গলাতো সব আওয়াজ ছাড়িয়ে শোনা গেল, “গোল গোল” |
১০ ওভার হতে না হতেই চমকাহাটির দল সাবাড় হয়ে গেল মাত্র ৫০ রান করে | সবাই খুব আনন্দিত | গড়াই দারোগা নিজের হাতে কাপটা পচার হাতে তুলে দিলেন | তারপর ওদেরকে দেখে গ্রামে যেন একটা মেলা লেগে গেল | গ্রামের হাসপাতালের আম্বুল্যান্সে করে চমকাহাটির ছেলেদের বাড়ি পৌঁছে দেবার বন্দোবস্ত হল |
এত নাচানাচির মধ্যে আচমকা করে ভজহরির কানে কে ফিসফিস করে বলল, “ভজা উঠে পর কাজ আছে |”
পিতামহের আদেশ ভজহরি উঠে পড়ল | আবার আদেশ, “আমাদের সেই ভুতুড়ে বাড়ির দিকে চল |” ভজহরির একটু ভয় হল কিন্তু পিতামহ সাথে আছেন বলে সে হাঁটা দিল ওই দিকে |
ওখানে পৌঁছানোর রাস্তায় সে এক অদ্ভুত দৃশ্য | আম্বুল্যান্স দাঁড়িয়ে আছে | টায়ার পাঙচার | আর ড্রাইভার আর চমকাহাটির কোচ অজ্ঞান হয়ে গাড়ির মধ্যে পড়ে আছে | গাড়িতে একটাও বাচ্চা নেই | কানে আবার আওয়াজ, “এগিয়ে চল ভজা সময় বেশি নেই |”
ভজহরি এগিয়ে গেল | সামনেই তাদের পোড়ো বারিটা দাঁত বের করে দাঁড়িয়ে | সাহস করে ভজহরি ঢুকে পড়ল | “সাবধানে একটু লুকিয়ে”, পিতামহের আদেশ |
ভজহরি ঢুকে দেখল বাড়িটায় যেন কেউ আছে বলে মনে হচ্ছে! একটু এগোতেই আলো আঁধারিতে দুটো দণ্ডায়মান কালো ভূতের মত মানুষকে দেখতে পেল | আচমকা করে ভূত ভেবে ভজহরির হৃদপিন্ডটা ধড়ফড়িয়ে হাই জাম্প মেরে গলার রাস্তায় মুখ থেকে বের হবার প্রচেষ্টা করে উঠলো । অনেক কষ্টে ভজহরি নিজেকে সংযম করলো ওগুলো যে আসলে মানুষ সেটা বুঝতে পেরে ।
একটা মূর্তি আরেকটাকে বলছে, “আজই পাচার করতে হবে ব্যাটাগুলোকে | পুলিশের চাপ বেড়ে যাচ্ছে এই দিকটায় |”
ভজহরির দুয়ে দুয়ে চার করতে দেরি হলনা | তাহলে এরাই কি সেই ছেলেধরার দল!
“ঠিক যাচ্ছিস ভজা | যা এবার গাঁয়ের লোকেদের টেনে এনে ব্যাটাগুলোকে পেঁদিয়ে বৃন্দাবন দেখা”, পিতামহ কানে কানে বলে গেলেন |
ভজহরি সন্তর্পণে বেরিয়ে গেল | বাইরে এসে সে তাড়াতাড়ি মাঠের দিকে রওনা দিল | হঠাৎ ঝোপের আড়াল থেকে বামাকে হাতছানি দিয়ে ডাকতে দেখল |
“বামা তুই এখানে কি করছিস?”
“কত্তা আমিতো যাচ্ছিলাম এই দিক থেকে হঠাৎ দেখি শিবের দেশ থেকে কয়েকটা দৈত্য আপনার বাড়িতে ঢুকে গেল | তাই কি ভেবে এইখানে দাঁড়িয়ে গেলাম পাহারা দিতে | সামনেই দেখলাম চমকাহাটির লোকগুলো নাক ডাকিয়ে ঘুমাচ্ছে | আমার মনে হয় কি কত্তা কোন অশনি সঙ্কেত আছে | আপনার এদিকে না আসাই ভালো”, বামা ক্ষ্যাপা বলে উঠল |
“বামা তুই এখানে থাক আমি আসছি”, এই বলে হনহনিয়ে ভজহরি বেরিয়ে গেল |

(৬)
মাঠে তখন আনন্দোৎসব চলছে | ভজহরি মাঠে পৌঁছেই গড়াই দারোগা কে খুঁজলেন | তিনি নাকি কোন জরুরি তলব পেয়ে চলে গেছেন |
বিপিন বাবুর সাথে মুখোমুখি হয়ে গেল | ভজহরি তাকে সব কথা বলে দিল | বিপিন বাবুর শুনেই চক্ষু স্থির | সময় বেশি নেই | গড়াই দারোগা হাওয়া | তো কি করা যায়! মাইকে আন্যাউন্স করা হল যেন সব গাঁয়ের লোক ক্লাব ঘরের সামনে তৎক্ষণাত জড়ো হয় |
সবাই উদগ্রীব ভাবে জড়ো হল | বিপিন বাবু সবার সামনে ভজহরির আনা খবরটা দিল | শুনেই ত সবাই অস্থির হয়ে উঠল আর মার মার করে এগোতে গেল |
বিপিন বাবু বলে উঠলেন, “আপনারা উত্তেজিত হবেননা এতে হিতে বিপরীত হতে পারে | কারণ আমাদের উদ্দেশ্য সব কটা ছেলে মেয়েকে বহাল তবিয়তে উদ্ধার করা | তাই আমাদের একটু বুদ্ধির সাথে কাজ করতে হবে | আপনারা একটা দল পুরো বাড়িটাকে ঘিরে ফেলুন | ওদের কাছে কি রকম অস্ত্র আছে আমাদের জানা নেই তাই সাবধানের সাথে থাকবেন | আরেকটা দল বাড়িটার মধ্যে ঢোকার প্রচেষ্টা করবে যাতে করে ওদেরকে কাবু করা যায় | ভজহরি বাবু আপনার কি বাড়িতে ঢোকার কোন অন্য দরজা জানা আছে যাতে করে কয়েকজন নির্বিঘ্নে ঢুকতে পারে?”
ভজহরি আমতা আমতা করছিল কারণ জন্মত: সে কখনো ওই বাড়িতে যায়নি | হঠাৎ কানে এল, “ভজা তুই হ্যাঁ বল আমিতো আছি |”
ভজহরি সবাইকে আশ্বস্ত করল সেই নিয়ে | তো ঠিক হল ভজহরি, বিপিন বাবু, ভোলা ঘটক, ন্যাপা সর্দার আর ট্যাঁপা দাদু (এনাকে নেবার মূল কারণ ইনি নাকি যুযুৎসুতে মহারথী) এরা ক্লোরোফর্ম নিয়ে বাড়িতে ঢুকবে |
ক্লোরোফর্মের বন্দোবস্ত ডাক্তার অবনী পোদ্দারের ঔষধের দোকান থেকে হয়ে গেলো ।
প্ল্যান মাফিক বাড়িটাকে ঘিরে ফেলা হল | বামা ক্ষ্যাপা এই সব দেখে কি যেন বলতে গিয়েও থেমে গেল |
এদিকে পিতামহের নির্দেশানুসারে ভজহরি বাকি দলটাকে নিয়ে বাড়ির পিছন দিকটায় গেল | একটা শুকনো নালা পড়ে ছিল | ওইটায় ঢুকে পড়ল সবাই | একটা পাথর ঠেলতেই একটা ছোট্ট খুপচি মত জায়গা খুলে গেল | সবাই আস্তে আস্তে ঢুকে পড়ল | অন্ধকার বলে একটু চোখ সওয়ার অপেক্ষা করতে হল | খানিকটা এগোনোর পর রাস্তা বন্ধ | আর একটা পাথর ঘোরাতেই একটা দরজা খুলে গেলো আর ওরা সবাই বাড়ির মধ্যে একটা গোসলখানায় প্রবেশ করল |
দরজা দিয়ে উঁকি দিতেই একটু দূরে একটা মিশকালো পালোয়ান মার্কা লোক-কে বসে থাকতে দেখা গেল | কেউ কিছু বোঝার আগেই ট্যাঁপা দাদু পাশকাটিয়ে বেরিয়ে গিয়ে লোকটার পিছনে পৌঁছে গেল | সবাই ভাবল এই বুঝি প্ল্যানের দফা রফা হল | কিন্তু দাদুর এক চপেই ওই রকম ষণ্ডা লোকও ধপ করে মেঝেতে পড়ে গেল | ওকে আবার চেয়ারে বসিয়ে সবাই আস্তে আস্তে খুঁজতে লাগল কোথায় বাচ্চাদের আটকে রাখা হয়েছে |
একটু এগোতেই দুটো প্রহরীকে দণ্ডায়মান দেখা গেল |
একজন আরেকজনকে, “সর্দার একটু ক্ষণ পরেই গাড়ি নিয়ে এসে পড়বে তারপর সব কটাকে ওতে ঢুকিয়ে পাচার করে দেব | আর আমরাও এখানকার পাততাড়ি গুটিয়ে হাওয়া |”
বিপিন বাবু আস্তে আস্তে ক্লোরোফর্ম রুমাল হাতে এগিয়ে চললেন | একটাকে জাপটে ধরলেন | ভজহরিও লাফিয়ে পড়ল ওর ওপরে | অন্যটি কিছু বোঝার আগেই ন্যাপা সর্দার এক হেঁচকা টানে তাকে পপাত ধরণীতলে | ট্যাঁপা দাদু এদিকে আস্তে করে ঘরের দরজা খুলে দিয়েছে |
দারোয়ান দুটোকে ধরাশায়ী করে ওরা ঘরে ঢুকে দেখে কম করেও গোটা তিরিশেক বাচ্চা হাত পা মুখ বাঁধা অবস্থায় পড়ে |
এমন সময় নিচে আওয়াজ শোনা গেল | ওরা বেরিয়ে এসে দেখে যে নিচে ১০-১২ জন ষণ্ডা লোক দাঁড়িয়ে | তাদের মধ্যে একজন কি যেন বলছে |
বিপিনবাবু ফিস ফিসিয়ে বললেন, “বোধ হয় সর্দার গাড়ি নিয়ে হাজির | কি করা যায় এখন!”
এমন সময় কোত্থেকে পুলিশের গাড়ির সাইরেন বেজে উঠল আর আওয়াজ শোনা গেল, “পুলিশ চারিদিক থেকে তোমাদের ঘিরে নিয়েছে | হাত তুলে বেরিয়ে এসো তা নইলে তোমাদের রক্ষে নেই |”
সবাই তাকিয়ে দেখে ভোলা ঘটক সুন্দর ভাবে পুলিশের নকল সাইরেন বাজিয়ে ছেলেধরার দলকে ভ্যাবাচাকা খাইয়ে দিয়েছে |
তারা তাকিয়ে দেখে সব কজন ঝটপট সদর দরজার দিকে এগিয়ে গেল |
বিপিন বাবু, ভজহরি, ট্যাঁপা দাদু আর ন্যাপা সর্দার ঝটপট ঘরে ঢুকে বাচ্চাদের হাত পায়ের বাঁধন খুলে দিচ্ছে | এদিকে ভোলা ঘটক ক্রমাগত একটা ছোট্ট চোঙা দিয়ে বলে চলেছে, “তোমাদের বাঁচবার উপায় নেই |”
এদিকে বাচ্চাদের খুলে সবাই ঝটপট নিচে নেমে গোসলখানার দিকে রওনা হল | পিছন থেকে দুড়দাড় আওয়াজ শোনা যাচ্ছে বোধ হয় দলটা ফিরে এসেছে বাইরে কাউকে না দেখে |
কিন্তু সেই দিকে দেখার কারোর সময় নেই | কোনো রকমে গুপ্ত পথ দিয়ে সবাই বাইরের দিকে রওনা হয়েছে |
বাইরে এসে দেখে যে সে এক এলাহি ব্যাপার | পুলিশ হাজির সামনে গড়াই দারোগা বামা ক্ষ্যাপার সাথে কিছু নিয়ে একটা আলোচনা করছে |
কাছে যেতেই দেখা গেল গ্রামের লোক আর পুলিশ মিলে সব কটা গুণ্ডাকে ধরে ফেলেছে |

(৭)
সব ঝামেলা মেটার পর বামা ক্ষ্যাপা, ভজহরি আর বিপিন বাবুর কাছে এসে করমর্দন করে বলল, “যা খেল দেখালেন স্যার | আমি বটুকেশ্বর বট | সি.আই.ডি থেকে | আমাদের কাছে অনেকদিন ইনফরমেশন ছিল যে এরকম একটা চোরাকারবার চলছে | কিন্তু ব্যাটাগুলো হাতেই লাগছিলনা | তা আজ যখন আম্বুল্যান্সে অজ্ঞান অবস্থায় ড্রাইভারকে দেখলাম তখনই বুঝেছি দল আজকে কিছু করবে | গড়াই বাবুকে জানালাম | কিন্তু পুলিশদের আসতে এত দেরি হলো কি বলি | তার আগে আপনারা যে ভাবে খেল দেখালেন | যখন গুণ্ডাগুলো বাইরে এসেছিল ভোলা ঘটকের সাইরেন শুনে | তখন গ্রামের লোকেরা ওদের ওপর হামলে পড়ে | সেই সময়ে গড়াইবাবু ও ফোর্স নিয়ে হাজির | তো ওদের ধরে আমরা ভেতরে গেলাম বাচ্চাদের ছাড়াতে কিন্তু ততক্ষণে আপনারা বেরিয়ে এসেছেন | থ্যাঙ্কস আ লট ফর সেভিং দ্য ডে |”
এই বলে বামা ক্ষ্যাপা থুড়ি বটুকেশ্বর বট বেরিয়ে গেল | একে একে সবাই এসে ভজহরিদের ধন্যবাদ জানিয়ে গেল | ট্যাঁপা দাদু আর ন্যাপা সর্দারকে তো মাথায় করে পুরো গ্রাম ঘোরানো হল | বাজি ফাটল | মান্তু সিং একটা বক্তৃতা দিয়ে এই সাহসিকতার জন্যে তার পার্টি-র তরফ থেকে পরের রবিবার একটা বিরিয়ানি পার্টি-র ঘোষণা করে দিলো ।
সব শেষে যখন ভজহরি বাড়ির উদ্দেশ্যে বের হলো তার মনটা বেশ প্রসন্ন | আজ তার মুখে এমনি একটা হাসি |
“ভজা চললাম রে | হাসতে থাকিস নইলে কিন্তু পরের বার এলে তোর দফা শেষ করব”, বলে পিতামহ বিদায় নিলেন |
পিতামহের বিদায়টা যদিও আনন্দের কারণ খোঁচা খেয়ে খ্যামটা নাচতে ভজহরির একেবারেই ভালো লাগছিলোনা, কিন্তু ভজহরির মনের কোনো এক কোনে কিছু যেন একটা মোচড় দিয়ে উঠলো । গ্যাস হলো কিনা সেই চিন্তাও একবার ভজহরির মাথায় টুকি দিয়ে গেলো । যদিও ভজহরির দুঃখ হচ্ছিলো কিন্তু হাসি থামানোর দুঃসাহস সে দেখাতে পারলোনা কারণ সে বুঝতে পারলনা পিতামহ গেলেন নাকি ঘাপটি মেরে লুকিয়ে আছেন তাই সে সব চিন্তা ত্যাগ করে হাসি মুখে বাড়ি ফিরে গেল |

স্বর্গলোকে হুলুস্থুল

Disclaimer: All the ideas presented are entirely figments of my imagination. In no way I am writing this to demean the beliefs of any person, or downplay any religion or country. I apologize in advance if it has hurt the sentiments of any and warn people to read this only if they feel like doing so.

প্র্রথম অংক:

প্রথম দৃশ্য:

(স্বর্গলোকে পাহাড়ে দেবাদিদেব মহাদেব আর মা দুর্গা)

দুর্গা: এই সাত সকালে বসে বসে ঝিমাচ্ছ! পারো বটে! কি কালকের নেশা এখনো নামেনি নাকি?

শিব: না, না, নেশা না, এই একটু ইয়ে মানে ধ্যান করছিলাম আর কি | সাত সকালে প্রাণায়ম, যোগ করলে শরীর সাস্থ ফুরফুরে থাকে কিনা! হেঁ হেঁ

দুর্গা: থামো দেখি ধ্যান করছিলাম…সাত কাল গিয়ে এক কালে ঠেকেছে এখনো মিনসে গপ্পো দেবার জায়গা পায়না…এদ্দিন ধরে ঘর করছি চিনিনা তোমাকে!

শিব (ঢোঁক গিলে): না মানে ইয়ে আরকি…

দুর্গা: ইয়ার্কি হচ্ছে, থামো আর মেলা কচ কচ করোনা! তোমায় যে বলেছিলাম মায়ের জন্যে স্পেশাল জামদানীর একটা শাড়ী আর বাবার জন্যে মখমলি ধুতি কিনে রাখতে, কিনেছ?

শিব: না মানে? নন্দী আর ভৃঙ্গী কে পাঠিয়েছি আনতে!

দুর্গা: বেশ হয়ে গেল তাহলে গুষ্টির তুষ্টি! ব্যাটা দুটো পাক্কা গাঁজা খেয়ে উড়িয়ে দিয়ে থাকবে সব টাকা! নাহ সবই দেখছি এখানে আমাকেই দেখতে হবে! আর পারিনা! কি কুক্ষণে যে মরতে তোমার সাথে বিয়ে করেছিলাম!

দ্বিতীয় দৃশ্য:

(কার্তিক আর সরস্বতীর প্রবেশ)

কার্তিক: সরু মেলা ফ্যাঁচ ফ্যাঁচ করিসনা!

সরস্বতী: দ্যাখোনা মা কার্তিক টা আমাকে বিরক্ত করছে!

দুর্গা: এই কেতো!

কার্তিক: মা ক্যাট নট কেতো!

শিব: ক্যাট! এত বিদেশি মেয়ের নাম লাগে শুনতে!

দুর্গা: মিনসের এদিক নেই ওদিক আছে! বিদেশি মেয়েদের নাম নিয়ে তো দেখছি পি.এইচ.ডি করে বসে আছো!

কার্তিক: পপস তুমি না সেই ওল্ড ফ্যাশনড রয়ে গেলে!

দুর্গা: থাম কেতো! কি হয়েছে মা?

সরস্বতী: মা এইবার দেশে গেলে আমাকে একটা এপেলের আই-প্যাড কিনে দিও না প্লিজ.

দুর্গা: কেন ওই দিয়ে কি করবি রে?

কার্তিক: কি আর করবে হয় কিন্ডলে বসে ই-বুক পড়বে নয়ত আই- টিউনস গান বাজাবে |

সরস্বতী: মা দেখোনা আবার!

শিব: এ কোন আপেল! ওটা খায় না মাথায় দেয়? আর সরু মা একটা আপেল খেয়ে আডাম আর ইভ-এর কি হল দেখলি তো! কেন আবার আপেল নিয়ে মারামারি করছিস!

সরস্বতী: আহ বাবা! তুমি না একেবারে টেকনোলজিক্যালি চ্যালেঞ্জড! ওটা একটা কোম্পানি! আর ওই আপেল বলছ, এদিকে আরেকটা আপেল নিউটনের টাকে পড়ার পর যে মাধ্যাকর্ষণ নিয়ে ভুরিভুরি তথ্য লিখে ফেললো ব্যাটা, তার জন্যে রাতারাতি কত ছাত্র আমার প্রতি আকর্ষিত হয়ে আমাকে হাউসহোল্ড নাম বানিয়ে ফেলল সেটা ভুললে হবে!

তৃতীয় দৃশ্য:

(লক্ষ্মী আর গণেশ-এর প্রবেশ)

লক্ষ্মী: মা আমার ল্যাপটপ টা দেখেছ? একটু ভাবছিলাম ব্লগ-এ নতুন ফিনান্সিয়াল টিপস গুলো আপডেট করে দিতাম |

শিব: হ্যাঁ মা তোর ওই কিসব ব্লগ না কি! ওতে আছে কি কি? আর ও কিকরে দেখে? আমায় একটু শিখিয়ে দিবি?

লক্ষ্মী: সে শেখানোর কি আছে! দেশের যা হাল টাকা তো উঠছে নামছে | কি করে স্টক এক্সচেঞ্জকে মুঠোয় রাখতে হয় তার টিপস আছে | লিঙ্ক খুব সহজ: বিচক্ষণপেঁচারট্যাঁকশাল.ভাগ্যুস্পট.কম | কিন্তু তুমি কি করবে ও দিয়ে?

শিব: না মানে নন্দী আর ভৃঙ্গীটা কিছু পয়সা হারিয়ে ফেলেছে, তাই ভাবছিলাম যে একটু আর কি টাকা খেলিয়ে যদি উসুল করা যায় |

দুর্গা: আ আ আ আ:  হারিয়েছে না উড়িয়েছে গাঁজা তে! ওই দুটো নিষ্কর্মা অপদার্থ জুটেছে আর ইনিও এই আধ দামড়া বয়সে ধেই ধেই করে নাচতে নাচতে চলেছেন ওদের পিছনে |

সরস্বতী: মা আমাদেরতো যাবার টাইম হয়ে এলো, তুমি তোমার ক্রেডিট কার্ডের সব বিল মিটিয়ে দিয়েছ তো? নইলে আবার অকারণে ফাইন লেগে যাবে |

দুর্গা: ইসসস ভাগ্যিস বললি, এই আপদটাকে দিয়ে তো কোনো কাজই হবেনা | কি করি, বিলটাও তো এবার অনেক, সবার জন্যে গিফট কিনতে এই ইনফ্লেশনের যুগে তো চোখে সর্ষেফুল দেখছি |

কার্তিক: মা চিন্তা করোনা তোমার ক্রেডিট কার্ড নম্বর আর পিন টা দাও আমি অনলাইনে ট্রান্স্যাকশন করে মিটিয়ে দিচ্ছি সব |

দুর্গা: এই না হলে আমার সোনার টুকরো ছেলে যা বাবা!

(লক্ষ্মী, সরস্বতী আর কার্তিকের প্রস্থান)

গণেশ: মা এবার কিন্তু দেশে গেলে সব নতুন রেস্তোঁরায় যাব | আগে শুনেছিলাম বাঙ্গালীরা মুড়ি চপ খেতো – এখনতো আবার নাকি ঐটাই শিল্প, তারপর বিদেশি খাবার হিসেবে চিনে খাবার ঢুকল আর এখন নাকি টোটাল এফ.ডি.আই আসব আসব করছে বলে সব ফরেন খাবার পিৎজা, ম্যাকডোনাল্ডস, কে.এফ.সি !

দুর্গা: এই রে! বাবা তুই ওসব ছাইপাঁশ খাস না, যা হাই কোলেস্টেরল পরে হাঁসফাঁস করবি | অশ্বিনী ব্রাদার্স বলেছে না নোলাটা একটু সামলে!

গণেশ: (ভ্যা করে কেঁদে উঠে) সবাই আমার পিছনে হাত ধুয়ে পড়েছে! আমিতো ডায়েটে আছি |

দুর্গা: আহা কাঁদেনা সোনা আচ্ছা এক কাজ করব তোকে সব বুফে-তে নিয়ে যাব | দেখছিসইতো ইনফ্লেশন আর রিশেসনের চক্করে লক্ষ্মীর হাঁড়ি কলসী সবই কাবুলিওয়ালার কাছে বন্ধক! চ বাবা |

চতুর্থ দৃশ্য:

(গণেশ আর দুর্গার প্রস্থান, ভৃঙ্গীর প্রবেশ)

ভৃঙ্গী: প্রভু পেন্নাম হই |

শিব: আয়ুষ্মান ভব: | খুব জোর বেঁচে গেছিস আর এক মিনিট আগে এলেই দুর্গা তোর পিণ্ডি চটকে দিতো |

ভৃঙ্গী: আমিতো সেই কখন থিক্যা ওই ঝোপটার আড়ালে চুপটি কইরা লুইক্যা ছিলাম আর মশার কামড় খাইতাছিলাম | মারে যাইত্যা দেইখ্যা তবে বীরপুরুষ হইয়্যা বুক খান চিতায়ে ঢুকলাম |

শিব: বাহ! বল তোকে যে কাজটা দিয়েছিলাম তা হচ্ছে?

ভৃঙ্গী: হ্যাঁ প্রভু লাইগ্যা পড়সি | পূজা আসতেছে তো মা তো যাবেন গিয়া বাপের বাড়ি, তো এই খাইনা যে অনুষ্ঠানের লিগ্যা আপনি তৈয়ারী করত্যাছেন তার জন্য ৩৩ কোটি দেব গণরে মেল পাঠাইত্যাছি |

শিব (আশ্চর্যের সাথে): দেব-দেবী গণ বলরে…আজকাল জেন্ডার ডিস্ক্রিমিনেশন করলে মহা ঝামেলা হয়…যাই হোক এই মেল বস্তুটি কি জিনিশরে!

ভৃঙ্গী: আরে কত্তা আর কয়েন কেন, মত্ত লোক থিক্যা কিছু নতুন রিক্রুট হইছে এই স্বর্গলোকে | ব্যাটাগুলো আই.টি প্রফেশনাল | কয় কিনা বাড়ি বাড়ি গিয়া চিঠি দেওনের দিন গেছে গিয়া, তাই ইন্দ্র দেব রে বইল্যা একটা বিল পাস করায়ে স্বর্গলোকে ওয়ারলেস কমিউনিকেশন লাগায়ে অন্তর্জাল ঐ ব্যাটা কি কয় হ্যাঁ ইন্টারনেট লাগাইছে | তা আজকাল সব দেবতারাই এইটা ব্যবহার করত্যাছে, অনেক কাজে লাগে কত্তা | আপনিতো এই সবের ঊর্ধ্বে বলে খবর রাখেননা |

শিব: হুম! তা এই মেল না ফিমেল দিয়ে কি সব দেব-দেবী গণদের চিঠি পাঠানোর কাজ সমাপন হয়েছে?

ভৃঙ্গী: হ প্রভু এই মাত্তর সেণ্ড কইরা আইলাম |

শিব: সাধু, সাধু!

পঞ্চম দৃশ্য:

(হন্ত দন্ত হয়ে নন্দীর প্রবেশ)

নন্দী: পেন্নাম হই কত্তা ঠাকুর |

শিব: আয়ুষ্মান ভব | কি হল রে নন্দী? হাঁফাচ্ছিস কেন?

নন্দী: কত্তা বড় গোল হয়েছে!

শিব (নড়েচড়ে বসে): কেনরে কোন বলশালী অসুর আক্রমণ করল নাকিরে? কত দিন হয়ে গেল একটা যুদ্ধ হয়নি, বসে শুয়ে কোমরে জং ধরে গেল…

নন্দী: না কত্তা তার থিক্যাও গম্ভীর ব্যাপার দেখা দিসে…

শিব: কি হল খুলে বল!

নন্দী: কত্তা, মায়ের মর্তলোকে যাওয়া বোধ হয় ক্যান্সিল করতি হবে…

শিব (বসে থেকে দাঁড়িয়ে পড়লো): হ্যাঁ সেকি রে…কি বলছিস! কেন কেন?

নন্দী: আর কয়েন কেন কত্তা মহিষাসুর কইত্যাছে কিনা সে নন-ভায়োলেন্ট হইছে…ওই যে কিছুকাল আগে মত্ত্যলোক থিক্যা গান্ধিজীরে স্বর্গে প্রবেশ দিলেন, তার পর থেকেই ওই ব্যাটা কিনা সব দেবতা আর অসুরদের নন-ভায়োলেন্সের বাণী দিত্যাছে | মহিষাসুর তো তার পুরো দল লইয়া ওর চেল্যা হইছে, কয় কিনা, “আমি মারামারি ত্যাগ করলাম” |

শিব: গিয়ে ব্যাটাকে এক থাপ্পড় মেরে নিয়ে আয় |

নন্দী: সেকি করিনি কত্তা! এক গালে ঠাস কইরা এক খান রদ্দা বসায়ে দিলুম সাহস কইরা, দেখি কি ব্যাটা আরেক খান গাল বাড়ায়ে দিসে, কয় কিনা গান্ধীজী কইসে | মহা ঝামেলা কত্তা!

শিব: হুমম! এত বড় গোল | দুগ্যে মহিষাসুর বধ না করে মর্তে কি করে যাবে!

নন্দী: কত্তা এখানেই শেষ নয় |

শিব: আবার কি হল?

নন্দী: মায়ের সিংহ এঁড়ে বসেছে ঠাকুর | ব্যাটা কিনা কিছু বাঙ্গালী ইউনিয়নের পোলাপান দের দেইখ্যা ধর্মঘটে লাগছে | গলা ছিঁড়্যা ময়দানে সভায় বক্তৃতা দিত্যাছে… কয় কিনা এই জন্তুদের উপর অন্যায় অত্যাচার চলবনা…বিনা মাইনায় বেগার খাটানো চলবেনা | আবার ওই দলে সুরসুর কইরা মা সরস্বতীর হাঁস, কার্তিক ঠাকুরের ময়ূর, আর গণেশ ভাইয়ের ইঁদুর যোগ দিসে গিয়া! কয় কিনা আর কতকাল এঁটো কাঁটা ভোগের উপর বাঁচুম! শোনেন কথা এদের কত্তা!

শিব: দুর্গা জানে এসব? আর বাচ্চারা!

ভৃঙ্গী: না কত্তা খোকা বাবুরা তো দাদুর বাড়ি যাবার লিগ্যা তৈয়ারীতে লাগসে | কার্তিক ঠাকুরতো লক্ষ্মী মায়ের সাথে উর্বশী বিউটি পার্লারে মাঞ্জা দিতে গেছে গিয়া | মায়ের বোধ হয় ঐ বেলায় পার্লারে টাইম দেওয়া আছে | এক মাত্র গণেশ ঠাকুরই খাইয়্যা দাইয়্যা শুইয়্যা শুইয়্যা ল্যাদ খাইতেছে দেখলুম |

শিব: হুমম এত বড় গম্ভীর সমস্যা! ভৃঙ্গী তুই ওই মেল না কি বললি ওর দ্বারা সত্বর সব দেব-দেবী গণদের ইন্দ্রের সভায় আসতে বল | একটা আলোচনার খুবই দরকার |

ভৃঙ্গী: জে আজ্ঞে কত্তা |

(নন্দী ভৃঙ্গীর প্রস্থান)

শিব (চিন্তামগ্ন অবস্থায় উঠে দাঁড়িয়ে): যাই একটু দুর্গাপুরটা দেখে সভায় যাই |

দ্বিতীয় অংক:

প্রথম দৃশ্য:

(ইন্দ্র লাঠি হাতে পার্কে হেঁটে ফিরছে, দেখে সভার বাইরে থিক থিক করছে সব দেব দেবী গণ আর সবার মুখই বিষণ্ণ)

ইন্দ্র (শনি দেবকে): ভাই এই পুজোর বাজারে সব দেবতারাই যারপরনাই ব্যস্ত থাকে, তা সত্ত্বেও সবাই নিজেদের কর্ম ত্যাগ করে সভায় কেন উপস্থিত হয়েছে, এমনকি দেখছি ব্রহ্মা, বিষ্ণু, মহেশ-ও হাজির!

শনি: এই জন্য বলছি একটু টেকনিক্যালি আডভান্সড হও ইন্দ্র! এরকম চললে রাজ সিংহাসন যাবে তখন ফ্যা ফ্যা করে স্বর্গপুরীতে ঘুরে বেড়াবে! সাত সকালেই আজ ভৃঙ্গীর মেল এসেছে যে মায়ের আসন্ন বাপের বাড়ি যাবার যাত্রায় নাকি বিঘ্ন দেখা দিয়েছে এবং তার সমাধানের জন্য স্বয়ং নীলকন্ঠ একটি আলোচনার আসর ডেকেছেন |

ইন্দ্র (একটা ঢেঁকুর তুলে): আ: কি বল হে!

গেটের দারোয়ান: দেবগণ-দের রাজা ইন্দ্র দেব সভায় আগমন করছেন হ্যাঁচোওও…

অন্য দারোয়ান: কি হলরে?

প্রথম দারোয়ান: আর বলিসনা আজকাল যা ক্লাইমেট চেঞ্জ হচ্ছে পলিউশনের জন্য, ঠাণ্ডা গরমে সর্দি লেগে গেছে রে |

(ইন্দ্র গিয়ে সিংহাসনে বিরাজমান হলেন)

ইন্দ্র: মহাদেব একি শুনছি আমি!

শিব (চিন্তাময় মুখ তুলে): কি শুনলে! ও আচ্ছা হ্যাঁ ঠিকই শুনেছ | ভাই সকল আজ এই মহা কঠিন সময়ে আমাদের এক হতে হবে আর এর একটা বিহিত বের করতে হবে |

বিষ্ণু: ভগবান বলেন তো সুদর্শন চালিয়ে এক আধটা জন্তু জানোয়ার উড়িয়ে দি! ভয়ে বাকিরা সুড়সুড় করে মোর্চা ত্যাগ করে মায়ের টিমে যোগ দেবে!

নন্দী: হ ওই বাকি আছে! একে তো ব্যবহার না কইর্যা আপনার সুদর্শন চক্রে জং লাগছে, ওটা চালাতে গিয়া হাত কাইট্যা টিটেনাস বাধায়ে বসলে অশ্বিনী ভাইরাও বাঁচাতে পারবনা কইয়া দিলাম | আর আজকাল জানোয়ার মারা অত সোজা না দেব, ধরিত্রী থেকে অনেকে আইছে যারা কিনা একটা জন্তুর পালক পড়লেও ডান্ডা হাতে এমন তিড়িং বিড়িং করে যে ওদের প্রকোপে আপনাকেই না স্বর্গলোক ছাইড়্যা মরতে কল্কি অবতার নিয়ে পালাইতে হয়!

(বিষ্ণু কেমন মিইয়ে এক কোণে সিঁধিয়ে গেল)

ব্রহ্মা: যত নষ্টের গোড়া এই কলিকাল! লোকগুলো কেমন যেন সব কটা নচ্ছার তৈরি হচ্ছে, মর্ত্যে তো আমাদের দাম বিন্দু বিসর্গ নেই, খালি আমাদের নামে চাঁদা তোলা আর সেই পয়সায় ফূর্তি! আসল মনে কেউ ডাকেনা!

নন্দী: থামেন কত্তা! মানুষ সাপ্লাইয়ার ডিপার্টমেন্ট তো আপনার, তো কি করছেন! খালি রাশি রাশি মানুষ নামাচ্ছেন ভেবে দেখেছেন ধরিত্রীর কি অবস্থা! বসুন্ধরায় এখন সবুজ বলতে কিছুই নেই সবই কালো ধোঁয়া, এত মানুষ মরত্যাছে যে নরক ফুল হয়ে গেছে গিয়া! কত শতর আত্মা মরণের পর পৃথিবী আর নরকের মাঝে ত্রিশংকু হইয়া লটকাইয়া আছে খবর রাখেন? নেহাত নরকে এখন নো ভ্যাকেন্সি তাই লম্বা লাইন, নইলে ওই আত্মাদের-ও রিসাইকেল করে আবার ফেরত পাঠাতে হলে কাল ঘাম ছুইট্যা যাইত! আবার নরকেও কি সব ঘোটালা হচ্ছে!

(এই শুনে যমরাজ টুক করে পবন দেবের পিছনে লুকোতে যাচ্ছিলেন)

ভৃঙ্গী: কি যমরাজ নিজের নাম শুইন্যা লেজ গুটায়ে ধাঁ দিতাছেন! আপনাদের হিসাবের দপ্তরে কত গোল আছে আমি সবই দেখছি | এই আপনাদের সিস্টেম টাকেও অটোমেট করতে গিয়া ব্যালান্স শিট কত গোল আমি দেখত্যাছি | চিত্রগুপ্ত বুড়োতো ঘুষ খাইয়া যাকে নয় তাকেই স্বর্গে পাঠাইছে! কি ভাবেন কিছুই জানিনা! আর ইদানীং দেখত্যাছি আই.টি লোক গুইল্যা খুবই আসছে স্বর্গে, ওদেরতো খাতায় কোন উল্লেখ দেখিনা পাপের! ব্যাপারটা কি?

যমরাজ (আমতা আমতা করে): না মানে এতো লোক তাই মাঝে মাঝে একটু ভুল ত্রুটি হয় বইকি! তবে সিক্স সিগমা মেইন্টেইন করে চলেছি এখনো! একা হাতে কত সামলাব বল! একেবারে আত্মা তোলার থেকে, পৃথিবী থেকে নরকে ডেলিভারী, তারপর ওদের চরিত্রের বিশ্লেষণ, দণ্ড নির্ণয় তারপর ওদেরকে কাজে লাগানো! কম কাজ না প্রভু (শিবের দিকে তাকিয়ে) | তবে ওই যে আই.টি লোকেদের কথা বললেন ওরা কিন্তু প্রভু জীবনকালেই যে নরক ভোগ করে আসছে, যে ওদের ডাইরেক্ট স্বর্গে চালান করা হচ্ছে |

নন্দী: আর তেল নিয়ে যে স্ক্যাম চালাচ্ছেন!

ভৃঙ্গী: হ্যাঁ কোয়ালিটি চেকে গিয়ে দেখি প্রভু, সেই বস্তা পচা বাসি তেল দিয়েই আত্মাগুলোর চপ কাটলেট আর শিক কাবাব বানানো হচ্ছে! কড়াই গুলো ধোয়া হয়না, একেবারে নোংরা করে রেখেছে রান্না ঘরটা-কে, খুবই আনহাইজিনিক প্রভু |

যমরাজ: না মানে ইয়ে আসলে তেলের যা দাম ওই জন্যে রিসাইকেল করে চালাচ্ছি | এটা এনভাইরনমেন্টাল দিক থেকেও শ্রেয়, আর কস্ট কাটিং-এর যুগে পয়সা বাঁচানোর দিক থেকেও শ্রেয় | স্যার একটা সাস্টেইনেবিলিটির ওপর ব্ল্যাক বেল্ট প্রোজেক্ট করছি এই নিয়ে, খুব সেভিংস প্রভু, কুবের দেব অডিট করেছেন |

কুবের: ওই দেখো আবার আমায় জড়ানো কেন এর মধ্যে! তুমি বাপু রান্না ঘরের অডিট করাও |

যমরাজ: আরে যমলোক তো একদিনের জন্যেও বন্ধ করতে পারিনা তাই ঐ শিফট ওয়াইজ পরিষ্কার করা হয় কিন্তু এত ওয়ার্ক লোড আর ম্যান পাওয়ার এর অভাব যে একটু মাঝে মধ্যে নোংরা হয়ে যায় প্রভু, নইলে নো কমপ্লেন্ট স্যার!

শিব: আহ: ঠিক আছে, ঠিক আছে, এসব পরে আলোচনা করা যাবে | নিজেদের মধ্যে ঝগড়া না করে আমাদের এই সিরিসঙ্ক্রান্তির একটা বিহিত করতে হবে সত্বর তা নইলে ভীষণ মুশকিল |

কুবের: ভীষণ মুশকিলের আর বাকি কি আছে প্রভু! স্বর্গলোকে যে সব অপ্সরাদের আমরা মায়ের অবর্তমানে মচ্ছপ অনুষ্ঠানে মনোরঞ্জনের জন্য অগ্রিম বুকিং করেছিলাম, তারা এই খবরটা কোথ থেকে জেনে গেছে! আমাদেরকে পাঠানো ই-মেল তাদের কে কেউ লিক করে দিয়েছে |

নারদ: নারায়ণ, নারায়ণ |

নন্দী: ব্যাটা পাক্কা এই মিনসেটার কাজ! খালি এদিককার কথা ওদিকে আর ওদিককার কথা এদিকে!

শিব: শান্ত হও নন্দী! তা কুবের কি বলছিলে তুমি?

কুবের: কি আর বলব প্রভু সবাই অনুষ্ঠানের কন্ট্রাক্ট নিয়ে এসে পয়সার দাবি করছে | এরকম চললেতো আমায় লাল বাতি জ্বেলে পায়ে হেঁটে লংকায় যেতে হবে | এখনতো আমার ভ্রাতা রাবণ ও ওখানে নেই, শুনেছি নাকি ওর থেকেও দুষ্কর লোক ওখানে আছে এল.টি.টি.ই না কি নাম…খুবই বিপাকে পড়েছি প্রভু!

ইন্দ্র: আমি বলছিলাম কি প্রভু বলেনতো স্বর্গলোকেও মর্তলোকের মত ই.এস.এম.এ লাগিয়ে দেব, যাতে করে সিংহরাজ আর মহিষাসুর ব্যাটাকে ধরে যম রাজের স্পেশাল সেল-এ সাপ্লাই দিয়ে আচ্ছা করে আড়ং ধোলাই দেওয়া যায়!

শিব: এতে হিতে বিপরীত হবে ইন্দ্র | মহিষাসুর কে বাঁচাতে যদি তার গুরু মোর্চায় বসেন তাহলে কিন্তু আমাদের নাভিশ্বাস উঠবে | তার ওপর জগত থেকে এতসংখ্যক লোক আমদানি হচ্ছে স্বর্গে যে যে কোন বিষয়ে একটা ধর্মঘট লেগে যেতে পারে স্বর্গে | তাই সিংহের হাজতবাস না আমাদেরকেই বিপদে ফেলে |

সকলে সমস্বরে: তাহলে উপায়!

শিব (খুব চিন্তার সাথে এক গ্লাস সোমরস পান করে): ইউরেকা, ইউরেকা!

ভৃঙ্গী (নন্দীকে কানে কানে): প্রভু সকাল থেকে নেশা ভাং করেননি বলেই এত ক্ষণ ঝামেলাটা পাকা আমের মত ঝুলে ছিল তা নইলে কখনই কেস সলভ হয়ে যেতো রে |

শিব: নো টেন্সন! এবার থেকে দুর্গা ন্যানো করে বাপের বাড়ি যাবে | আর কতকাল এতটা রাস্তা সিংহের ওপর ঠেঙিয়ে যাবে! আর ন্যানোর জাঁক জমকে মহি ব্যাটার দমনও লোক ভুলে যাবে |

সবাই সমস্বরে: সাধু, সাধু!

তৃতীয় অংক:

প্রথম দৃশ্য:

(স্বর্গলোকের আসমান টি.ভি তে এখন অব্দি প্রোগ্রামের হোস্ট বৃহষ্পতি)

বৃহষ্পতি: আপনারা দেখছেন এখন অব্দি | আমাদের বিশ্বস্ত সূত্রের দ্বারা আমরা জানতে পেরেছি যে মা দুর্গা এবার এক অভিনব রূপে বাপের বাড়ি যাবেন | আমাদের রিপোর্টার জগন্নাথ মহাদেবের সাথে আছে, হ্যাঁ জগন্নাথ মায়ের বাহন সম্পর্কে কিছু জানা গেলো?

জগন্নাথ (গলায় মাইক ঝুলিয়ে শিবের সাক্ষাত্কার নিচ্ছে): প্রভু এটা কি সত্যি যে মা এবার ন্যানো করে যাবেন মর্তে?

শিব: হ্যাঁ এখন এই বিষয়টা পাকা হয়নি, বিল টা আপার হাউসে অনুমোদনের জন্যে গেছে | আমার ইচ্ছের কথা শুনে এদিকে মহিষাসুর আর সিংহ দুজনেই আমার সাথে আলোচনায় বসতে চেয়েছে | দেখি আলোচনার ফল বিরূপ হলে দুর্গা এবার ন্যানো তেই যাবে |

জগন্নাথ (ফিসফিস করে): প্রভু একটু পিঠ তা চুলকে দিন বড্ড চুলকাচ্ছে |

(শিব ত্রিশূল দিয়ে একটু চুলকে দিল. লাইভ টেলিকাস্ট তখনই হটিয়ে দেওয়া হল)

বৃহষ্পতি: আমাদের সম্প্রসারণে কিছু গোলযোগ হয়েছে | দেখতে থাকুন আমাদের সাথে মায়ের বাপের বাড়ি যাত্রা | আগে কি হবে দেখব হাম লোগ |

দ্বিতীয় দৃশ্য:

(শিব আর মহিষাসুর মিটিং-এ)

মহিষাসুর: স্যার এই কান ধরত্যাছি, বাম্পার মিস্টেক হয়ে গেছে | এ যাত্রা মাফ কইরা দ্যান | আসলে ঐ বাপুজির বচন শুইন্যা একটু ইয়ে হয়ে গেছিলাম আরকি | কিন্তু এরকম করলে ত স্যার কেউ মনে রাখবে না আমায়! আর নাম যশ না থাকলে এই বয়সে কি করে খাব স্যার? একটু ভেবে দেখুন |

শিব: হুমমম, তা এরকমটি আর হবে নাতো?

মহিষাসুর: না স্যার এই নাক খত দিচ্ছি, কনতো এবার মা যখন বুকে ত্রিশূল ঢোকাইবেন তখন দাঁতটা না খিঁচিয়ে একটা ১,০০০ ভোল্টের হাসি দিমু | কিন্তু এরকম ভুল আর হইবনা স্যার |

শিব: ঠিক আছে তুমি যাও আমি তোমায় জানাব |

তৃতীয় দৃশ্য:

(মহিষাসুর আস্তে আস্তে উঠে প্রস্থান করল, আর সিংহ দরজা দিয়ে উঁকি মারল)

সিংহ: মিউউ…হুমমম…হালুম, মানে কর্ত্তার জয় হোক |

শিব: এসো হে সিংহ মহারাজ |

সিংহ: কি যে বলেন কর্ত্তা, আমি আবার কোথাকার মহারাজ!

শিব: বাবা সেকি তুমিতো বড়সড় নেতা হয়ে গেছো হে |

সিংহ: কেন লজ্জা দিচ্ছেন কত্তা | ভুল মানুষ মাত্রেই হয় আর আমিতো সাধারণ জন্তু | এ যাত্রা ছেড়ে দিন তা নইলে না খেতে পেয়ে মরব কত্তা | পুজোর ভোগ না চড়লে এ চেহারা বজায় রাখা দায় হবে প্রভু (বলে শিবের পায়ে পড়ে গেল সিংহ) |

শিব (একটু দূরে সরে গিয়ে): আহ: থাক, থাক, ঠিক আছে যা ক্ষমা করে দিলাম এ যাত্রা |

চতুর্থ অংক:

প্রথম দৃশ্য:

(স্বর্গলোকের আসমান টি.ভি তে এখন অব্দি প্রোগ্রামের হোস্ট বৃহষ্পতি)

বৃহষ্পতি: আপনারা দেখছেন এখন অব্দি | তাজা খবরের অনুসারে মহিষাসুর ক্যাম্প আর সিংহ ক্যাম্প নিজেদের ধর্মঘট তুলে নিয়ে মায়ের সাথে যাত্রায় সম্মতি জানিয়েছে | তাই মায়ের যাত্রা প্রতি বছরের ন্যায় এ বছর একই ভাবে হবে | এতে সমগ্র দেবতাগণ খুবই আহ্লাদিত | জয় দুর্গা মাইকি জয়! এই জগা আমার পার্টি ড্রেসটা বের কর আর গান বাজা:

হরি হে দীনবন্ধু তুমি আমারও বন্ধু বাপেরও বন্ধু |

কেন

জীবনের এই দৌড়ে

সবাই চলেছে ছুটে

কেউ বা কারো ঘাড়ে চড়ে

কেউ বা রক্তাক্ত পায়ে হেঁটে

কিছু মানুষ জীবনে

কেন শুধু দু:খ পায়

বিধাতার জ্বালাময় ত্রিনয়নে

কেন তারা ভস্ম হয়ে যায়

তারা বিধাতার সাথে শুধু লড়ে

যাতে করে অন্যেরা থাকে সুখে

তাদের অশ্রুনামে হৃদয়ের ‘পরে

কিন্তু তাও তারা ঘোরে সদা হাসি মুখে

এটা কি ধারা বিধির বিধান

কেউ সব পায় আর কেউ ভিখারী রয়

কেউ বা গেয়ে যায় আনন্দের গান

কেউ ক্ষণে ক্ষণে মরে নিয়ে ভাঙ্গা হৃদয়…!!

কুটুস

আজো মনে পড়ে সেই দিনটা

পেট -শপের সেই দক্ষিণ কোণটা

ছোট্ট একটা বাক্স থেকে

ছুট্টে এলে আমায় দেখে

সেদিন তুমি চলে এলে

বাকিদের পিছনে ফেলে

নতুন ঘরে আমার সাথে

তুমি এলে খালি হাতে

সারাদিন তোমায় নিয়ে

সময় আমার যেত বয়ে

তোমার সাথে বল খেলা

পার্কে হাঁটা সন্ধ্যেবেলা

লেজ নাচিয়ে ছুটতে জান

কুটুস মোদের সবার প্রাণ

সকালে উঠে কাগজ আনা

বা ঘরের মধ্যে দস্যিপনা

না দেখলে তারে ‘পরে

সবার মনই কেমন করে

হঠাৎ করে একদিন রাতে

উধাও হলে কার যে সাথে

চারিপাশে খোঁজা শুরু

ভয়ে বুক দুরুদুরু

হঠাৎ করে খবর আসে

একটা কুকুরকে নাকি মেরেছে বাসে

ছুট্টে যাই রাস্তার মোড়ে

চোখের জল বুকে ধরে

ভগবানের কাছে আর্জি জানাই

দুর্ঘটনায় কুট্টুস না হয়

কিন্তু যা না হবার তাই ঘটে গেল

কুটুস মোদের ছেড়ে গেল

তাই আজো মনে পড়ে সেই দিনটা

পেট- শপের সেই দক্ষিণ কোণটা!!!

চিন্তা

লেখা পড়ে লোকের মনে প্রশ্ন জাগে

মুরগি হল প্রথম না ডিম ছিল আগে

অবান্তর জিনিস নিয়ে ভেবে মোরা মরি

নিজের দোষে কাজ বিগরোয় তাতে বয়েই গেল ভারি

দু নয়নে স্বপ্ন যাদের আকাশ ছোঁবার আশা

তাদের ভাত নিলাম কেড়ে, কাজ করলাম খাসা

গাছে কাঁঠাল গোঁফে তেল মোদের এটাই হল কাল

সুযোগ বুঝে চুনোপুঁটি হাঙ্গর ধরতে বিছায় দেখো জাল

খুড়োর কল দেখিয়ে মোদের নাচায় দেখ কারা

ট্যাঁশগরু হুঁকোমুখো যাদের করেছে দলছাড়া

দুম ফটাফট হঠাৎ করে চিন্তা এল ভারি

বাক্স প্যাঁটরা গুছিয়ে তারা চলে গেল বাড়ি

ঝগড়াঝাঁটি সাঙ্গ হল দিনের শেষে এসে

কার যে কত লাভ হল সেটাই ভাবি বসে…!!!

স্বর্গলোকে হুলুস্থুল

সকাল বেলায় ইন্দ্র উঠে

ফিরল যখন পার্কে হেঁটে

দেখে স্বর্গলোকে গোল লেগেছে ভারি

সবাই খুব চিন্তিত সবার মুখই হাঁড়ি

পুজোর সময় সবারই ব্যস্ততা যায় বেড়ে

তাও সবাই ভিড় করেছে কাজ কম্ম ছেড়ে

ব্রহ্মা বিষ্ণু হাজির আছেন এই সমাবেশে

৩৩ কোটি ভগবান আছেন আশে পাশে

শিব বাবাজি নেশাভাঙ সবই গেছে ভুলে

আস্তে আস্তে আসল কথা সবারে বলেন খুলে

দুর্গা মা আর তার ৪ ছেলে মেয়ে উদগ্রীব হয়ে আছে

কারণ মায়ের বাড়ি যাবার সময় এগিয়ে আসছে কাছে

কিন্তু এই শুভ সময়ে বিপদ এলো তেড়ে

মহিষাসুর বলছে মারামারি নাকি দিচ্ছে দেখো ছেড়ে

গান্ধিজীর প্রবচন তাকে দিচ্ছে ভারি প্রেরণা

তাই এবার থেকে সে আর যুদ্ধ করতে যাবেনা

মহিষাসুর বধ ছাড়া মা যাবেন কি করে দেশে

তাই এবারের যাত্রা না পণ্ড হয় শেষে

তার ওপরে মায়ের সিংহের রাগ হয়েছে ভারি

বসে আছে সবার সাথেই করে সে আড়ি

বাঙালীদের লাল ঝাণ্ডা দেখে সে ভারি খুশি

বক্তৃতার প্রাক্টিস করে করে গলায় হল কাশি

জন্তুদের ওপর অত্যাচার চলবেনা তার এই হল নারা

বিনা পয়সায় বেগার খাটায় তারে এবার দেখি কারা

ইঁদুর ময়ূর হাঁস তার দলে দিচ্ছে যোগ

আর কতকাল খাবে তারা এতকটা ভোগ

তার ওপরে মায়ের দেশে সবাই যাচ্ছে মাকে ভুলে

প্রগতি না কি সব ঘোড়া হাতি আছে এর মূলে

মাকে আর কেউ ডাকেনা ভালবেসে শ্রদ্ধা করে

কারণ ধরিত্রীর ওপর রাক্ষসগণ যাচ্ছে দেখো বেড়ে

মায়ের অনুপস্থিতিতে যে সব পার্টি ঠিক করা আছে

সব দেবতাই চিন্তিত সেসব ভেস্তে না যায় পাছে

সব অপ্সরাদের আগে থেকেই বুকিং করে রাখা

এখন প্রোগ্রাম বাতিল হলে কে দেবে তাদের টাকা

সেই ভয়ে কুবের ভাবছে সে পড়বে কেটে

লাল বাতি জ্বেলে দিয়ে লংকা যাবে হেঁটে

তাই ডাকা হয়েছে এই সত্বর আলোচনা

কি করে এই বিপদ কাটে তারই ভাবনা

সোমরস পান করে শিবের টনক গেল নড়ে

বললেন এবার থেকে দুর্গা যাবে ন্যানো গাড়ি চড়ে

এই শুনে স্বর্গলোকে রব উঠল তুমুল

দুর্গাপুরে খবর গেল স্বর্গলোকে হুলুস্থুল

সিংহ বাবার পেঁয়াজি নিমেষে গেল চলে

তার রুজি রোজগার সবই যাবে এরকমটি হলে

মহিষাসুর ভেবে দেখে কে দেখবে তারে

যদি মা দুর্গা ঘুরতে বেরোন নতুন টাটা কারে

সব মুষ্কিল নিমেষেতে কোথায় গেল চলে

সবাই খুশি কারণ মা আসছেন সদলবলে…!!!