আমার এখনো মনে আছে আমার প্রথম ডেট | সাধারণত: প্রথম ডেট সবার জীবনেই স্মরণীয় কিন্তু আমার বেলায় সেটা একেবারেই এক আলাদা অনুভূতি যাকে বলে বাম্পার কেস |
আমি আমার প্রথম ডেট-এ আমার স্কুলের ক্রাশের সাথে বেড়িয়েছিলাম যখন আমি ক্লাস ১২-এ | ওই দিনটির জন্য আমি কত সপ্তাহ ধরে জল্পনা কল্পনা করেছিলাম আণ্ড ফাইনালি সে সূপর্ণা আমার সায়নের সাথে বেড়োনোর জন্য রাজি হল |
স্কুলে আমি বিখ্যাত ছিলাম একজন কুল ছোঁড়া হিসাবে যার বাড়িতে কোন রোক টোক ছিলনা | যার মা-বাবা অভিভাবকের থেকে বন্ধু বেশি | কিন্তু আসলে আমিও একটা মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে যেখানে সেই কোর ভ্যালুজ আর প্রিন্সিপাল-এর একটা টানাফরন থাকে |
যাই হোক বাড়িতে তো বেবাক ঢপ মারলাম যে আমি আমার স্কুল এক্সকারশনের জন্য যাচ্ছি যাতে করে মা-বাবা পারমিশন দেয় | যাই হোক অবশেষে সেই বহু আকাঙ্খিত দিন এল |
দুপুরে একটা বেপক রেস্তোঁরায় মধ্যান্নভোজের পরে হাতে হাত ধরে দুজনে একটা সিনেমা দেখতে গেলাম | তার পর যেহেতু সন্ধ্যে নেমে আসছিল আমরা হাতে হাত ধরে নিউ মার্কেট এলাকায় ঘুরছিলাম একে অপরের সম্পর্কে কথা বলতে বলতে | জীবনটা সত্যি কত মধুর লাগছিল সেই মূহুর্তে |
আচমকা চারপাশের ওই ভুলে যাওয়া ভিড় যেটা কিনা একই রাস্তায় হাঁটছিল, তার থেকে একটা চেনা মুখ বেরিয়ে আসছিল | কেন জানিনা ভীষন চেনা সেই চেহারাটি | আস্তে আস্তে যখন আমার সম্বিত আমার বিবেচনা শক্তিকে ফিরিয়ে আনল তখন বুঝতে পারলাম যে ওই চেনা মুখটি আর কারোর নয় স্বয়ং আমার পিতৃ দেবের |
এক মূহুর্তের মধ্যে আমার মধ্যে থেকে সমগ্র প্রেম উধাও হয়ে গেল আর তার জায়গা নিল ভয় | রোমিও গায়েব হয়ে তার জায়গায় যেন স্কুবি ডু হাজির হল আর সামনে যেন সাক্ষাত যম | ওই সময়টুকুতেই আমি বুঝতে পারলাম আমি যে লজ্জার মুখে পড়তে চলেছি তার ব্যাপারে | আমার বাবা আমাকে নিশ্চয় চিনতে পারবেন আর দেখা হলেই আচ্ছা করে আড়ং ধোলাইটা অনিবার্য | বাড়িতে তো কুরুক্ষেত্র লাগবেই কিন্তু লজ্জার শেষ থাকবেনা যখন সূপর্ণা যে কিনা আমায় কুল গাই ভাবে (তখন তো গাই অর্থে গরুই মনে হচ্ছিল), সে সেই জিনিসটা দেখবে | স্কুল বাড়ি আমারতো দু কুলই ডুবল |
ভয়ে কাতর হয়ে আমি ভগবানের কাছে প্রার্থনা করতে লাগলাম যাতে জমি ফাঁক হয়ে যায় আর আমি সীতা দেবীর মত এক লাফে তাতে সেঁধিয়ে যাই | কিন্তু প্রাক্টিক্যাল ওয়ার্ল্ডে তা হবার নয় | তখনই একটা আশ্চর্য ব্যাপার ঘটল |
আমার বাবা ঠিক আমার সামনে এসে গেছিলেন সেই এখন অতোটা না ভুলে যাওয়া ভিড়ের সাথে | উনি আমার চোখের দিকে একজন অচেনা ব্যক্তির মত তাকালেন, আর আমার পাশ কাটিয়ে বেরিয়ে গেলেন গায়ে গা ঘেঁষে যেন উনি আমায় চেনেনই না |
ওইটাই আমার জীবনের সব থেকে বড় শক আর রিলিফ ছিল | আমি এখনো জানিনা কোন ইমোশনটা আমার মধ্যে বেশি গোঁত্তা দিচ্ছিল! যাই হোক সূপর্ণা খানিকক্ষণ পর বাড়ি চলে গেল, এই ভেবে যে আমি সত্যি কুল | আর আমিও গুটি গুটি পায়ে বাড়ি মুখো হলাম |
সেই রাতে রাত ছিল পূর্ণিমা নাকি অমাবস্যা আমার তখন সেটা দেখার অবস্থা ছিলোনা | বাড়িটা কয়েদ ঘরের মত হয়ে উঠেছিল | আমি ডিনার খেতে গেলাম দুরু দুরু বুকে | খিদে তো তখন আমার একদম মরে ভূত | অবাক বিষয় হল সবই একদম স্বাভাবিক ছিল | মা খেতে দিলেন আর কেউ টুঁ শব্দটি করল না কোন বিষয়ে | আমার লাইফটা যেন আরো নরক হয়ে উঠল | আমি তাড়াতাড়ি খেয়ে শোবার ঘরে চলে এলাম | আমার মাথায় তখন হাজার অক্ষৌহিনী প্রশ্ন কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ চালাচ্ছিল | আমি বুঝতে পারছিলাম না যে বাবা ফিরে যখন বাড়িতে আমার ঢপ মেরে প্রেমালাপ করাটার কথা ফাঁস করেছেন তখন কেন সব কিছু এত স্বাভাবিক, কেন আমায় কেউ কিছু বলছেনা! যতই ভাবছিলাম ততই আমি আরো বেশি চিন্তিত হচ্ছিলাম | মনের কোনো এক কোনে একটা অপরাধ বোধ আমাকে কুরে-কুরে খাচ্ছিলো ।
এই সময়ে ঘরে বাবা ঘরে এলেন | সেই শান্তির দূত | এসে আমার পাশে বসলেন | আমি ভয় চোখে ওনার দিকে দেখলাম, কিন্তু ওনার চোখে ছিল সেই শান্ত আর দৃঢ় ভাব যা হামেশাই থাকে |
উনি ঠাণ্ডা ভাবে জিজ্ঞেস করলেন, “তা বাবু, ডেট কেমন গেল? বলতেই হবে মেয়েটি খুবই ভাল আর সুন্দরী |”
আমি যদিও অবাক হলাম কিন্তু গরগর করে আমার সমস্ত দিনের কথা বলে গেলাম | শেষে এটাও বললাম যে দিনটা একদম স্পেশ্যাল ছিল কিন্তু খুব তাড়াতাড়ি কেটে গেল |
বাবা হেসে বললেন, “জানিস আইনস্টাইন বলেছেন যে যদি তুমি একটা গরম উনুনে হাত রাখো তাহলে এক সেকেণ্ডও এক ঘন্টার ন্যায় লাগবে আর যদি তুমি কোন রমনীর সাথে থাক তাহলে এক ঘন্টাও এক সেকেণ্ডের ন্যায় লাগবে | একেই বলে রিলেটিভিটি | আসল বক্তব্য হচ্ছে তুমি যা চেয়েছ তা তুমি কতটা আনন্দ সহকারে ব্যবহার করলে |”
আমি আমার বাবাকে কখনো এরকম দেখিনি আগে | উনি আমার বাবার থেকে বন্ধু বেশি মনে হচ্ছিলেন | আমি যতটা না আমাকে চিনি উনি তার থেকে সহস্রগুণ বেশি যেন আমায় চিনেছিলেন |
আমরা তারপর হাজারটা জিনিস নিয়ে অনেকক্ষণ গল্প করলাম | আমার এখনো ওনার কথা গুলো মনে আছে | আমি বুঝতে পারছিলাম না যে ওই দিনটা আমার ফার্স্ট ডেট ছিল আমার স্বপ্নের রানীর সাথে নাকি ফার্স্ট ডেট আমার বাবাকে আসল ভাবে চেনার! কিন্তু আমার চোখে ওনার প্রতি ভালবাসা আর শ্রদ্ধা আর সহস্রগুণ বেড়ে গেছিল |
বাবা উঠে পড়লেন যাবার জন্য | আমি বলে উঠলাম থ্যাঙ্ক উ বাবা |
দুজনেই জানতাম যে আমি কেন থ্যাঙ্ক উ বলছি |
বাবা ঘুরে দাঁড়ালেন আর সেই স্বপ্নকাতর চোখে বললেন, “বাবু, আমি কিকরে তোকে ডোবাতে পারি বাবা | কখনো নয় | আমি খালি বলব জীবনে যাই হোক, তুমি যাকেই ভালবাসো, যতটাই ভালবাসো, খালি মনে রেখো যে তোমার মা বাবা তোমায় ভালবেসেছে তার থেকে ১৮ বছর বেশি | ১৮ বছর বেশি বাবা |”
বলে উনি লাইট নিবিয়ে চলে গেলেন | ওই সামান্য সাদা নীল আভায় যেটা কিনা খোলা জানলা দিয়ে ঢুকে পড়া চন্দ্রমার আলো, আমিও একটা জিনিস বুঝলাম, সত্যি এটা ১৮ বছরের ভালবাসা যেটা কোন ছেলে মেয়েই ফিরিয়ে দিতে পারবেনা |
সত্যি ওটা আমার ফার্স্ট ডেট ছিল সেই ভালবাসার সাথে যেটাকে আই টুক ফর গ্রান্টেড ফর অল দিস ১৮ ইয়ারস |
Page 5 of 7
কমেডি সেন্ট্রাল : ডাকনাম
ছোটন থেকে শুরু করে বুলবুল, খোকা, লাল্টু, গোগোল, বাবু, বুড়ো, টুটু, বুবু, ঘোঁতন, ভুটান, ছোটকা, ল্যাংটো, বুবাই, টুবুল . . . ইত্যাদি!!
এখানে একটা চেষ্টা চালাচ্ছি ঐ সব অমানবিক ষড়যন্ত্রগুলোর বিরুদ্ধে যা আমাদের মত বঙ্গ সন্তানদের ওপর প্রযোজ্য করা হচ্ছে…
বাকিরা ভাবে আমরা আতা ক্যালানে! এতো কিছুইনা বন্ধুগণ, এর পেছনে আছে সহস্র বছরের চাল আমাদের অত্যাচারীদের ওরফে মহিলাগণদের…ওরা বিভিন্ন মানসিক কূটনীতি দিয়ে আমাদের মত সুপুরুষদের জবুথবু বানিয়ে রাখে…
যাই হোক নজর দেওয়া যাক ওদের হাতের প্রধান অস্ত্রের দিকে – ডাকনাম…
বাঙ্গালী পরিবারে কোন ছেলে জন্মালে ওদের একটা ভাল নাম দেওয়া হয় যেটা কিনা ঐতিহ্যপূর্ণ ও তেজিয়ান হয়, বাঙ্গালী নাম শুনলেই একটা রাজকীয় ভাব আসে…
যে লোকের নাম সুস্মিত, সম্রাট, সমুদ্র, রুদ্র, প্রকাশ, ইন্দ্রজিত, সুরজিত, প্রসেনজিত, বিশ্বদীপ, ইত্যাদি, সে মাথা উঁচু করে দৃঢ় কদমে হাঁটবে কারণ সে জানে যে জগত তার কাছে কিছু চায়…এটাই তার নামের মর্ম, কর্ম আর ধর্ম…কিন্তু উঁহু সে গুড়ে বালি.. এ কদাচিত হবার নয়…
এই কাজটার গুরু দায়িত্ব নেয় ঐ মহিলাগণ!! বিষ্ণুর দশ অবতারের মত এদের দশ অবতার – মা, মাসি, পিসি, মামি, কাকী, জেঠি, দিদা, ঠাকুমা, দিদি ও বোন! ওদের হাতে থাকে সব চাবিকাঠি যা দিয়ে কাঠি করতে তারা কোন রূপেই দ্বিধা করেননা…আর তারা অতি সহজে ও নির্দ্বিধায় সে কর্মে মত্ত হন, ছেলেটিকে ওর ভালো নামে না ডেকে এমন ডাকনামে ডাকে যাতে কিনা শক্তি কাপুরও উত্তর দিতে লজ্জা পাবে…
বাঙ্গালীদের ডাকনাম হল একটা সর্ব যুদ্ধে বিজয়ী একটি অত্যাশ্চর্য জিনিশ যা ফেভিকলের থেকেও বেশি চিপকে থাকে | এটি একটি এমন একগুঁয়ে, সাধারণত: দুই সিলেবলের নাম যেটা কিনা বঙ্গ সন্তানদের সাথে এমন সময় থেকে জুড়ে দেওয়া হয় যখন তারা খুবই ছোট ও বাধা দেওয়ায় অপারক এবং এটি মৃত্যু অব্দি তাদের জীবনের সাথে যুক্ত থেকে যায়…
ডাকনাম বানানোর মূলত: ৫ টা নিয়ম আছে, যথা:
১.> ডাকনাম গুলোর ভালো নামের সাথে কোন যোগ থাকবেনা | অরুণাভ কে অরুণ বলা চলবেনা কারন সেটা হবে যুক্তিযুক্ত আর মহিলা জগতে এটা একটা অত্যাশ্চর্যের জিনিশ; তাই ডাকনাম হবে ভোম্বোল…পারলে ডাকনাম আর ভালো নামে একটাও অক্ষর এক হওয়া চলবেনা…এর একমাত্র ব্যতিক্রম হচ্ছে যদি না নামটা ছোট করলে একটা লজ্জাকর শব্দের জন্ম হয় যেমন পদ্মলোচন কর্মকার থেকে পাদু কার বা সিম্পলি পাদু…আর যদিও বা কোনরকমে নামটাকে ছোট করা হয় আর তার থেকে কোন লজ্জাকর নামের জন্ম না হয়, তাহলে শীঘ্রই ছোট নামটার থেকে কোন হাস্যকর নামের জন্ম হয় যেমন কুসুমাঞ্জন থেকে কুসু হয়ে ব্যাপারটা সুসু-তে যেতে বেশি সময় নেয়না…
২.> ডাকনামগুলো অপমানকর হওয়া উচিত টু দ্য পাওয়ার অফ ইনফিনিটি…যদি তুমি একটা লম্বা সুন্দর ছেলে হও..যে কিনা ক্রিকেট ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন…খুবই অমায়িক…তাহলে তোমার নাম হবে ভুতাই…যখনি তুমি কোন রমণীর দিকে দেখবে…একটু কথা বলতে যাবে তখনি কোত্থেকে তোমার মা এসে বলবে, “ভুতাই বাড়ি চল”…বেশ খিক-খিক, খুক-খুক…আর যতটা আত্মবিশ্বাস তুমি তোমার শেষ ৬ বা গোল মেরে পেয়েছিলে সব জলাঞ্জলি ওরফে মায়ের ভোগে…
৩.> ডাকনামগুলি তোমার বাল্যকালের কোন লজ্জাকর ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেওয়া হয় যেটা কিনা তুমি দরকার হলে তোমার হাত পা কেটেও বদলাতে না পারো…ডাকনামগুলি একেবারে ভালবাসার নালায় চোবানো থাকে আর ভুলে গেলে চলবেনা এগুলি অত্যাধিক মাত্রায় উদ্ভাবক হয়…যদি তোমার একটু বেশি সময় লেগে থাকে তোমার শিশুকালের মেদ ঝরাতে….তাহলে তোমার বছরের পর বছরের জিমিং-ও তোমার মোটকা নামটা খণ্ডাতে পারবেনা…যদি ছোটবেলায় কাঁদলে তোমার মুখ লাল হয়ে যেত তাহলে তুমি হলে গিয়ে লাল্টু…যখন তুমি ৪০ তোমার বন্ধুর ছেলেরাও তোমায় লাল্টুকাকু বলে ডাকবে…বয়স তোমার থেকে তোমায় গুরুত্ব দেবার অধিকার কেড়ে নেবে…
৪.> ডাকনামের সংখ্যা আত্মীয়দের সংখ্যার সাথে সরাসরি সমানুপাতিক…বিভিন্ন পরিবারের লোক তোমায় বিভিন্ন ডাকনামে ডাকবে আর একটা অদৃশ্য আর অলিখিত প্রতিযোগিতা সূত্রে একটা ডাকনাম হবে আরেকটার থেকেও বেশি লজ্জাকর…যদি কেউ তোমায় ভোঁদা বলে ডাকে তো কেউ ডাকবে পচা বা কেউ ঘোঁতন…তোমার নাকাল হওয়া ব্যাখ্যামূলক ভাবে বর্ধিত হবে…
৫.> তোমায় সবসময় তোমার ডাকনাম দিয়ে পরিচয় দেওয়া হবে…যদিও রণজয়ের মধ্যে একা হাতে শত্রুনাশের শক্তি থাকে, কেল্টুর দ্বারা তা অসম্ভব…কিছুকাল পরে কেল্টু রণজয়ের ওপর টেক্কা দেবে আর সে নতিস্বীকার করবে সহস্র বিদ্রুপের বিরুদ্ধে…
এই কৌশলটা কিন্তু মারাত্মক কার্যকরী..নিজেকে জিজ্ঞেস করে দেখো…তুমি কি কখনো প্রফেসর লম্বকর্ণকে গাম্ভীর্যের সাথে নেবে…নাকি ড.হাঁদার কথায় গুরুত্ব দেবে…নাকি যুদ্ধে জেনারেল টপার নিচে কাজ করবে…জাজ হেগোর সিদ্ধান্তকে কি ঠিকভাবে মেনে নেওয়া যাবে নাকি ঝন্টুবাবার প্রবচন তোমায় আকর্ষিত করবে…বুকে হাত দিয়ে ভাবো টেকো নাপিতের কাছে কি তুমি কভু চুল কাটতে যাবে, তার মাথায় যতই চুল থাকুক না কেন!
এই ডাকনামের শক্তি আমাদের বাঙ্গালীদের মানসিকভাবে একটা মারাত্মক আঘাত করেছে…এটা ঐ বাঁদরের মতো আমাদের পিছনে ঝুলে থাকে যারা কিনা সময়ে অসময়ে থাপ্পড় মারে…আর এর পেছনে আছে সেই নারীর দশ অবতার…!!
প্রেম আর আমি
১.> হুমমম | রিসার্চ বলছে ছেলে:মেয়ে হল ১০০০:৮৪২, তাই আমাদের (ছেলে নামক অদ্ভূত প্রজাতির) চান্স কম | সেই জন্যই আমায় বারে বারে প্রেমে পড়তে হয় যদি একটার সাথে টিকে থাকা যায় | যদিও এখন অবদি একা (তবে কিনা বহু দিক থেকে খরচা কম এটা গুড) | যাই হোক শিশুকাল থেকে শুরু করা যাক আফটার অল সেই হাফ প্যান্ট-এ শুরু আর ফুল প্যান্ট-এ গুরু:
স্কুল ডেজ (কোয়েড স্কুল) সুন্দরী রমণী আর আমি ফচকে ছোঁড়া | সব বিষয়ে একটা গা ছাড়া ভাব, স্কুল-এ সব ক্লাস-এ বাইরে থাকতাম (ম্যাডাম-রাই দায়িত্ব নিয়ে বের করে দিতেন) | খেলাধূলায় সময় কাটত | নেহাৎ পড়াশোনায় খারাপ ছিলাম না তাই টিচারেরা বাম্বু দেবার চান্স পেতেননা | তা ব্যাক টু স্টোরি | সব ছেলেদেরই ওই মেয়েটিকে ভাল লাগত | কিন্তু আমার সাথে মোটামুটি ভালোই বন্ধুত্ব ছিল | আমার প্রাক্টিকাল খাতার সব ছবি বলতে গেলে ওই আঁকতো (আমার আঁকার হাতের গল্প আরেকদিন বলব) | তা বেশ চলছিল | টিফিনে টিফিন শেয়ার করা (মানে আমারটা আমি খেতাম আর ওরটাতেও ভাগ বসাতাম) | তা এত সুখ কি আর সহ্য হয় কারুর | সবাই মিলে পেছনে লাগা শুরু করল | শেষে এলো সেই ড্রেডেড দিন – রাখী বন্ধন | ওর দু:খে নিজেকে ত্যাগী করে ওকে বললাম দে রাখী বেঁধে | বেশ আর কি টিফিন টাও পেতাম (যদিও চেপে গেছিলাম যে আর একটা রমণী এসেছিল নতুন আমাদের ক্লাসে যার জন্য আমি হাসি হাসি এই ত্যাগটা করেছিলাম – কিন্তু সেটা আরেকটা গল্প)|
২.> তা যা বলছিলাম, সেই নতুন রমণীটির কথা | উফফফ | এখন ভাবলে কিরকম স্বপ্নের দেশে চলে যাই, চোখ দুটো মাদকতায় ভরপুর | বেশ আমিও লেগে পড়লুম | জানিনা কি ভাবে ভাল বন্ধুত্ব হয়ে গেল (আমার ভাল বন্ধুত্বের মানে হচ্ছে টিফিন শেয়ার আর বসে বসে ভাঁট বলা আর শোনা) | যথারীতি সবার নজর পড়ল | মনে হয় এবার ভগবান একটু ব্যাগড়া দিল | তা নইলে দিব্যি বলছি ওতেই থেমে যেতাম | একটা ক্লাস গেল, গরমের ছুটি পড়লো | দেখা হতোনা, মাঝে মাঝে ফোনে কথা (তখন বাপু এইসব মোবাইল-এর যুগ ছিলোনা), এই যা | ক্লাসে ফিরলাম | জানিনা কোন খাদ খেয়ে মেয়েটা এইয়া ঢ্যাঙা হয়ে গেল | এখন আমি আফসোস করি কেন আমি কমপ্ল্যান খেতামনা | যাই হোক সেই ও আর আমি | সেই দুজনের চোখে চোখ | খালি ডিফারেন্স এই যে ও বসে আর আমি দাঁড়িয়ে | ব্যাস প্রেমে ইতি | খুবই ট্রাজেডি | শেক্সপিয়ারে থাকলে আরেকটা ড্রামা হত |
৩.> একটা ভায়োলেন্ট ছোটিসি লাভ স্টোরি মনে পড়ে গেল |
সেই স্কুল জীবন | সব বন্ধুরা প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছে আর আমি বন্ধুদের জন্যে ত্যাগ করে করে একাই বসে আছি (মোদ্দা কথা কেও পাত্তা দেয়নি) |
তা সেই সময়ে পাশের স্কুল-এর একটি রমণীর দিকে নজর আকর্ষিত হল | উফফফ জেনো ক্যাটরিনা কাইফ (খালি হাইট একটু কম) | বেশ দিল মে বাজি গিটার | কি করা যায়, কি করা যায় ! অনেক খবর নিয়ে ওর বাড়ির হদিস পেলাম | এক দিন দুগগা দুগগা বলে বেরিয়ে পড়লাম, সাথে কয়েকটা বন্ধুকে নিয়ে | মিশন প্রোপোজ |
ছুটির দিন, ওর বাড়ির বাইরে ঘুর ঘুর করছি | একটু পরে যথারীতি টাইম হলো, ও কোচিং পড়তে বেরোল | আমার বন্ধু গুলো আমাকে বারে চড়িয়ে দিল ক্ষুদিরামের মত | আমিও বাংলা সিনেমার নায়কের মত গিয়ে বললাম | দেখ আমি অরবিন্দতে পড়ি | আর তোমায় আমার খুব ভাল লাগে | ও আমাকে দেখে বলল, “তুমি ওই ফচকে ছোঁড়াটা না, সর্ব ঘটে কাঁঠালিকলা!”
আমি তো ছবি, গলা শুকিয়ে কাঠ | তাও বন্ধুরা কি ভাববে ভেবে বললাম, “না না ওটা কেউ বাজে বলেছে, আমি খুব ভাল | আমার সাথে থাকলে জানতে পারবে |” ও বলল, “আচ্ছা দাঁড়াও, বই ফেলে এসেছি এসে কথা বলছি |”
আমিতো খুব খুশি আহ্লাদে পুরো ২০ খানা অবস্থা |
খানিকক্ষণ পর দেখি দুটো দুম্ব মতন মুষ্ক লোক বেরিয়ে এসে আমায় ধরে বলে যে, “এই তুই কোথাকার ছোঁড়া রে?”
সে তারপর উত্তমমধ্যম | পিছনে ফিরে দেখি বন্ধু গুলো সব কর্পূরের মতো হাওয়া | আমিও কোনরকমে গা বাঁচিয়ে চম্পট | সে যাত্রা খুব জোর বেঁচে গেছিলাম | আর বলেছিলাম রঞ্জনা আমি আর আসবনা (আসল নামটা আর জানার সাহস হয়নি) |
৪.> কানা মাছি ভোঁ ভোঁ যাকে পাবি তাকে ছোঁ | আমার ডায়েরি থেকে আরেকটা | এটাকে বলা যেতে পারে-প্রেমে গুগলি | তখন ক্লাস ১০ | মোটামুটি স্কুলের বণ্ড, কোভ্যালেন্ট বন্ড | আমার আবার একটা গুন ছিল যে সবার সাথে বন্ধুত্ব হয়ে যেত | তা যথারীতি দেখা পেলাম এক রমণীর | বাবার ট্রান্সফারের জব তাই ডিরেক্ট এন্ট্রি | বোধহয় ম্যানেজমেন্টেরও কেউ চেনা ছিল! দেখেই বুকের ভেতরটা ধড়াস করে উঠল | যাই হোক, গিয়ে কথা বললাম | আস ইউজুয়াল বন্ধু হয়ে গেলাম | আমার বাড়ির কাছেই থাকত | তাই এক সাথে স্কুল যাওয়া আসা চালু করলাম | যা সারা লাইফ করতে পারলাম না সেটা করা চালু করলাম | স্কুলে টাইমে পৌঁছানো! যাই হোক মাঝে মাঝে সন্ধ্যেবেলায় চিনে বাদাম বা ফুচকা খাওয়া, পার্কে বসা ছিলই | তা একদিন আমায় বলল কিনা যে একটা কথা আছে | খুব সিক্রেট আমাকে ছাড়া কাউকে বলা যাবেনা আর আমি জেনো কাউকে না বলি | বেশ আমিতো গ্রীন সিগন্যাল পেলাম | বিকেলে দেখা করার আগে একটা ডেয়ারি মিল্ক কিনলাম | সাপ্তাহিক পকেট মানি খালাস | যাই হোক গিয়ে দিলাম, হাফা হাফি খেলাম | বললাম কি কথা !
ও বলে, ওই যে তোমার ভালো বন্ধুটি আছেনা যে পড়াশোনায় খুব ভালো, ওকে আমার খুব ভালো লাগে | একটু বলবে ওর আমার সম্পর্কে কি ধারণা ! তাহলে এগোব |
বেশ সমস্ত স্বপ্নে কেরোসিন ঢেলে শিপ দেশলাইয়ের একটা কাঠি | যাই হোক তখন আবার এই সব সাইড হিরোদের কুরবানির সিনেমা ফেমাস ছিল | তাই আমি ওদের মিলিয়ে দিলাম | পরে যখন আমি পাঁচিলে বসে অন্য রমণী দর্শন করতাম | পিছনে ওরা আইস-ক্রীম বা আলু কাবলি খেতে খেতে ঘুরত, কি আর বলব | নেহাত স্কুল-এ কিছু ভালো মেয়ে ছিল বলে আর আমি অতো কেয়ার করিনি, নইলে হৃদয়টা ঈর্ষায় জ্বলে পুরো কয়লার খনি হয়ে যেত |
৫.> এবার আসা যাক আমার লাইফের একমাত্র অকৃত্রিম প্রেম |
স্কুল-এর পর এক বছর ঘরে বসে ভ্যারেন্ডা ভেজেছিলাম | পড়াশোনার থেকে রেস্ট নিচ্ছিলাম | দেখানোর জন্য প্রেসিডেন্সি আর জেভিয়ার্স দুটোতেই কেমিস্ট্রি অনার্স পেয়েছিলাম তবে একটাতেও যাইনি | ফলে আমার মডারেট ডায়েটের দরুণ বেশ ফুলে গেলাম | এক বছর পর সি.ই.টি দিয়ে ব্যাঙ্গালোর কম্পিউটার সায়েন্স পড়তে এলাম | প্রথম দিন ক্লাসে ঢুকলাম, যথারীতি লাস্ট বেঞ্চে গিয়ে বসলাম | খানিকক্ষণ পর সেও এলো | বেশ পিছনে ভায়োলিনের আওয়াজ আর মনে দিল কা ভ্রমর করে পুকার | নাহ এসব কিছুই হয়নি | দেখে ভাল লাগল | আস্তে আস্তে সেটা আরো বাড়তে লাগল | যদিও জানতাম শি ইজ আউট অফ মাই লীগ | আমি ভোঁদাই মার্কা ক্যালা ছেলে | তাও বামুনের চাঁদ চাইবার শখ কি যায় !
এরকম করে প্রায় ৩ বছর পার, একটাও কথা বলতে পারলামনা | সামনে গেলেই কিরকম জানিনা গলায় আওয়াজটা একদম জট পাকিয়ে গিঁট্টু মেরে জেতো | আমার এলেম দেখানোর জন্য ফাঁকা পেলেই গান গাইতাম (তানসেন ভেবে গাইতাম বাট গলা দিয়ে ভীষ্মলোচন শর্মাই বেরোত) | আমার সব বন্ধুগুলো আমাকে হেল্প করার চেষ্টা করত কিন্তু বৃথা | ডি.জে তে নাচতাম ওর চারপাশে মাইকেল জ্যাকসনের মত (যদিও ভাল্লুক ডান্স উড বি আ বেটার নেম ফর ইট) | এক বার তো ওকে সামনে পেলাম অনেক কষ্টে, ও সুন্দর নাচছিল আর আমি কেত মারতে গিয়ে ধপাস ! সে আর লজ্জায় মাথা কাটা যায় আর কি !
ও সামনে এলেই কিরকম জেনো সব এলোমেলো হয়ে জেতো | একবার ক্লাস-এ একটা প্রোগ্রাম কেউ পারেনি খালি আমি করেছিলাম | তো কি হল বন্ধুর সাথে আমি রাতে খেতে বেরিয়েছিলাম | হঠাৎ একটা অচেনা নম্বর থেকে ফোন | আমি বুঝতে পারিনি প্রথমে পরে তুলতে তুলতে কেটে যায় | আমি মহা কঞ্জুষ কল ব্যাক করিনি | পরে বাড়ি ফিরে শুনলাম মেয়েটি আমার নম্বর জোগাড় করে ফোন করেছিল প্রোগ্রামের জন্য | আর আমায় না পেয়ে পরে আমার রুম মেটের থেকে চেয়ে নেয় | পোড়া কপাল!
যাই হোক ৪র্থ ইয়ার এলো | আমাদের পুরো ক্লাস একদিনের ট্রিপে বেরোলাম | খেলা হল ট্রুথ আন্ড ডেয়ার | আমাকে আমার বন্ধুরা ইচ্ছে করে যে কোন মেয়েকে প্রোপোজ করতে বলল মানে ক্ষুদিরাম কেস | আমিও বুকে পাটা দেখিয়ে ওকে প্রোপোজ করলাম | প্রপোজাল সত্যি ভাল ছিল আর লিখলামনা, বেশি ইন্টু সিন্টু লাগবে | তা শুনে বলল ওকে |
ততদিনে আমার অবস্থা খুবই খারাপ | পড়তে এমনিতেই বসতামনা আর বসলে ওর কথা | গ্রেড গুলো মাটি খুঁড়ে ঢুকে যাচ্ছিল | কোনরকমে পাশ করছিলাম | যাই হোক ইন্টারন্যালের সময় ওকে বললাম দেখ ক্যান উই বি ফ্রেণ্ডস ! আমি জানি আই ক্যান নট আস্ক ফর মোর | তা ও বলল ওকে | পরে বাড়ি গিয়ে গুড নাইট মেসেজ করলাম | রিপ্লাই এল কে হে তুমি ! আমি বুঝলাম নাম্বার যখন ডিলিট করেছে, তখন চান্স শুন্য তাও লিখলাম, বন্ধু সায়ন | বেশ একটা এমন ঝামটা এলো | আই ওয়াজ জাস্ট বিয়িং নাইস, ডোন্ট বদার মি | হ্যাভ ইউ সীন ইওরসেল্ফ?
খুব খারাপ লাগল | কেঁদে কেঁদে চোখ দুটো টম্যাটোর মত লাল করে ফেললাম | পরীক্ষা গোল্লায় | বেশ কয়েকটা ভাল ভাল অপরচুনিটি পেলাম ব্যাঙ্গালোরে সব ছেড়ে উইপ্রো নিলাম (লাস্ট অন মাই প্রায়োরিটি লিস্ট) যে কলকাতায় পোস্টিং দেবে |
ফুল্টু দেবদাস হয়ে গেলাম | চান ত্যাগ (যদিও আমি হামেশাই একটু জল সংরক্ষণে বিশ্বাসী), দাড়ি রবীন্দ্রনাথের মত, চুল এমনিতেই কম কাটি, খালি মদটা শুরু করিনি (পকেটে মাল কড়ি কম ছিল বলে, তাই বোতল বোতল জল পান করেই দেবদাস ফিলটা আনতাম) | পড়ে থাকতাম ঘরের এক কোণে | ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করে | বাড়ি গেলাম | জানতে পারলাম উইপ্রো পোস্টেড মি ইন ব্যাঙ্গালোর, আইরনি অফ লাইফ | বাড়িতে কিছুদিন রইলাম | সব বন্ধু, আত্মীয় দের মধ্যে থেকে নিজেকে আবার খুঁজে পেলাম | লাইফে ওই একবার সিরিয়াস হয়েছিলাম জাস্ট টু রিয়েলাইজ, ইট’স নট ওয়ার্থ ইট! লাইফটা হচ্ছে হাসিখুশি থাকার জন্য আর সবাইকে হাসানোর জন্য | আন্ড সো বি ইট!
এটাই আমার মোটো | তা যাই হোক ফিরে এলাম | আণ্ড আই কুড নট হ্যাভ আস্কড ফর মোর |
আজকাল অফিসে যাই, ৮:৩০ পৌঁছাই, ৯ টায় ব্রেকফার্স্ট করতে যাই, ১০:৩০ মিল্ক ব্রেক (আমি আবার চা কফিও খাইনা কিনা), ১২ টায় লাঞ্চ ব্রেক, তারপর আবার একটু আফটারনুন ডিপ মেডিটেশন (মানে নিপাট ঘুম), তারপর ৩.৩০ মিল্ক ব্রেক, ৬ টায় ব্যাগ কাঁধে হাওয়া | তারপর যোগ-আরোবিক্স বিকজ অর্নিথোলজি ইজ স্টিল মাই ফেভারিট হবি | একটু জিম আন্ড দেন বাড়ি এসে কুটকুট | এই বেশ ভাল আছি |
হ্যাঁ এর মাঝে মাঝে প্রেমে পড়াটাও আছে | ওটা ছাড়তে পারিনি | শিশুকালের অভ্যেস কিনা!
৬.> তা অনেকদিন লিখব লিখব করে আর লেখা হয়না | তাই আজ লিখেই ফেলি | কত নম্বর প্রেম জিজ্ঞেস করোনা | কাউন্ট হারিয়ে ফেলেছি! এনিওয়েজ নতুন নতুন অফিস জয়েন করেছি, আর নতুন প্রোজেক্টে এলাম | সাথে একটি মেয়ে এলো, আস ইউজুয়াল লেগে গেলাম ভাঁট বকতে | ভাল বন্ধু হয়ে গেলাম | তা এর মধ্যে কিকরে জানিনা একটু নাম হয়ে গেল টেকনো ট্যাপা বলে | ফোঁপর দালালি করা চালু হল | কারোর কোন প্রবলেম হলেই সবাই আমার কাছে আসত | আমিও একটু নিজেকে কেউকেটা ভাবতাম | মেয়েটি আমার পাশের কিউবিকলেই বসত | যখনই কোন প্রবলেম হত আমি লাফিয়ে গিয়ে সাহায্য করতাম | এমনি ঠাট্টাও করতাম ওকে রাগিয়ে | তা একদিন বাড়িতে ও ভাইয়ের সাথে ঝগড়া করে অফিসে এসেছে, সকালে আমায় বলল | দুপুরে ওর কিছু প্রবলেম হওয়াতে আমি আবার পৌঁছে গেলাম | ও একটু রুক্ষ ভাবে বলল, “আমি নিজে থেকে করতে পারি | বারবার আসার কি দরকার!”
আমি তখন ঠাট্টা করে বললাম, “ওরে আমার সবজান্তা কন্যেরে!”
ব্যাস ও বলল নিজের চরকায় তেল দাও | এই সময়ে আরেকটি মেয়ে কলিগ এসে যায় | আমার মেল শভিনিষ্ট ইগো আমায় গোঁত্তা দিল | আমিও চিল্লে ঝগড়া করে বললাম আর দরকারেও আসবনা | কথাও বলা বন্ধ করলাম | পাক্কা ১০ দিন | তখন মনে কোথায় একটা ব্যথা চালু হল, প্রথমে ভাবলাম গ্যাসের প্রব্লেম | পরে বেশ দিল ধক ধক করনে লাগা | আর মন বলল কুছ কুছ হোতা হ্যায় | কি করি, কি করে কথা বলি! মহা চাপ | রেগুলার ওর পাশের জনদের সাথে কথা বলতাম আর ওর সাথে বলতামনা | তা আমি দেখতাম ও কথা বলতে চায় বোধ হয়! ১০ দিন পর আমার মেসেঞ্জারে একটা পিং এল, “এখনো রেগে আছো!”
ব্যাস আমিও গলে আমূল বাটার | কথা আবার চালু | দুজনেই সরি বলে কাত | চালু হলো আরো গভীর বন্ধুত্ব | এক সাথে ব্রেক ফার্স্টে যাওয়া, লাঞ্চে যাওয়া, বিকেলে বাসের জন্য দাঁড়িয়ে ওয়েট করা, সিনেমা ইত্যাদি | কিন্তু যেহেতু আমি আগেই এমন ধাক্কা খেয়েছিলাম যে ওকে প্রোপোজ করবার বুকের পাটা পেলামনা | পাছে বন্ধুত্ব টাও যায় | আর দেখবে যে তুমি কাঁদলে লোকে দেখবেনা, হাসলে কেউ পাত্তা দেবেনা, কেউ তোমার দু:খ দেখবেনা, আগে এলে ম্যানেজার দেখবেনা, কিন্তু কিন্তু যদি একটা মেয়ের সাথে একটু ঘোরো বেশ সবার নজরে পড়বে | অফিস-এ টন্ট চালু হল |
আমি ওর কথা ভেবে একটু ডিস্টান্ট হলাম | ও বুঝল | আস ইউজুয়াল নরম্যাল ফ্রেণ্ডসদের মত চলতে লাগল | গত বছর ও গোমড়া মুখে এল হাতে একটা কার্ড, খুলে দেখলাম ওর বিয়ের কার্ড | কিরকম জেনো ঝটকা লাগল | ওকে বললাম দু:খী লাগছে কেন তোমারতো খুশি হবার কথা | ও বলল যে ও খুশি | কোথ থেকে যেন ক্ষুদিরামের আত্মা ঢুকে পড়ল | বললাম কিন্তু আমি খুশি নই | আকচুয়ালি আমার তোমায় পছন্দ | খালি সাহস করে বলতে পারিনি যদি আস আ ফ্রেণ্ড ও তোমায় হারাই | দেখলাম ও কিরকম হয়ে গেল | বলল আমারো তোমাকে পছন্দ বাট ইট’স টু লেট নাও | ব্যাস এণ্ড রেজাল্টও ক্ষুদিরামের | কি কুক্ষণে চেপে ছিলাম | ইচ্ছা করছিল নিজেই নিজেকে লাথাই | তা ওর বিয়ে হয়ে গেল আর ও বাইরে সেটল হল |
ব্যাস মোর গল্পটি ফুরোল নটে গাছটি মুড়োল | মরাল অফ দ্য স্টোরি – প্রক্যাস্টিনেশন কিলস দ্য ক্যাট | আর আই বিকেম রেডি ফর ইয়েট আন্যাদার লাভ | তবে বেশি টাইম ইনভেস্ট করবনা এবার থেকে তা নইলে এই আসরের জন্য গল্প পাবনা বেশি |
৭.> প্রেমটা অনেকটা হাওয়ার মত হয়ে গেছে | এক জায়গায় চিরস্থায়ী না | রমণী দেখলেই প্রেমে পড়ে যাই, আবার নতুন রমণী এলেই পুরনো প্রেমটা নতুনের দিকে ট্রান্সফার হয়ে যায় | প্রেম ক্যান নিদার বি ক্রিয়েটেড নর ডেস্ট্রয়েড, ইট ক্যান অনলি ট্রান্সফার ফ্রম এক রমণী টু অন্য | তা এরকমই বেশ বিন্দাস কেটে যাচ্ছিল | এর মাঝে আমার দুটি বেশ রমণী বান্ধবী হল | ভালোই হল বন্ধুত্ব | এর মধ্যে এক জনের রিসেন্ট ব্রেক আপ হওয়ায় তাকে সাপোর্ট টেলিকাস্ট দিতে লাগলাম | ফল রিবাউণ্ড প্রেম | আমার মেয়েটিকে মন্দ লাগতনা | একদিন বাড়িতে মাকে বলেই দিলাম, মা মেয়ে করে নিয়েছি পছন্দ | মা ত অবাক, বলে আদৌ মেয়েটাকি তোকে পছন্দ করেছে! একটু ঝটকা লাগল, আসলে ফুল কনফিডেন্স নেই | মেয়েটা যদি নো কনফিডেন্সে ভোট দিয়ে দেয় তাহলেই তো কেস, যদিও মন বলছে এইবার পাক্কা হবে গুরু | যাই হোক সাত পাঁচ চিন্তা নিয়ে বেড়িয়ে আবার হোঁচট, সেদিনই জানতে পারলাম আমাদের মিউচুয়াল ফ্রেণ্ড-এর থেকে যে অন্য মেয়েটি আমায় পছন্দ করে! এইবার ক্যাচ ২২ সিচুয়েশন তখন এলো যখন আমার প্রিয়ে আমার কাছে এসে তার বান্ধবীর জন্যে আমাকে বলল | ব্যাপারটা পুরো হিন্দি সিনেমার লাভ ট্রায়াঙ্গেল প্লাস বন্ধুর জন্যে আত্ম ত্যাগের একটা বস্তা পচা সিন হয়ে দাঁড়াল | এইবার বন্ধুদের মধ্যে প্রেম জিনিসটা আনিসনা তাহলে চাপ এই বলে দুজনকেই সাইড করতে হল | তারপর আগ বাড়িয়ে তাদের জন্যে ছেলেও দেখতে হল | যাকে আসলে ভালো লাগত সে যদিও বেশ কিছুদিন আমার জন্যে অপেক্ষা করেছিল কিন্তু যেহেতু অলরেডি ডায়লগ মেরে দিয়েছি সেই জন্যে ম্যান অফ ওয়ার্ডস বলে আর ফেরৎ যেতে পারিনি নইলে তিন নম্বর ট্রায়াঙ্গেল কোনা কি ভাববে! বেশ কিছু বছর পর দুটোরই বিয়ে হয়ে গেল | আমি যদিও তার আগে থেকেই নতুন রাউণ্ডের জন্যে রেডি |
৮.> বাঙ্গালীদের পুজো পরিক্রমা মানেই হল হাজার গণ্ডা ছেলে মেয়ে একে অপরকে ইম্প্রেস করার জন্যে ড্রেস করে ঘুরবে | বেশ এই চক্করেই আবার আমার মনে ইমোশনের লুজ মোশন হয়ে গেল আণ্ড আবার সেই প্রেম | খালি পুজোর সময় দেখা হত, রাতভর ঘোরা | যে কোন বাহানায় তার আশেপাশে ঘোরা বাট রেজাল্ট সেই একই আমি ইনভিজিবেল ম্যান আর তার দৃষ্টি আমার ওপর পড়তই না | এনিওয়েজ আমি জানতাম হিস্ট্রি রিপিটস ইটসেল্ফ, তাই আর রবীন্দ্রনাথের বীরপুরুষ না হয়ে সত্যজিত রায়ের কাপুরুষ হয়ে এইবার আর প্রোপোজ করলাম না | ফল পুজোয় ঘোরাঘুরি, আড্ডার বাড়াবাড়ি, খুনসুটি মারামারি, খাবার কাড়াকাড়ি তারপর যে যার বাড়ি | মেয়েটির মা যখন দেখল এ ছেলে আমার মেয়েকে প্রোপোজ করবেনা তখন বাধ্য হয়ে ছেলে দেখে নিল | সো মাই ডিয়ার ফ্রেণ্ডস আরেকটা গল্পের এডিশনের জন্যে রেডি তো!
ভয় পেওনা
ভয় পেওনা, ভয় পেওনা তোমায় আমি মারব না
সত্যি করে বলছি দাদা, তোমার সঙ্গে পারবনা
অফিসে আমার দল কম, পাত্তা কেউ দেয়না
বসের সাথে কুস্তি করতে মনটা আমার চায়না
মনটা আমার বড্ড নরম ছল চাতুরি জানেনা
দাদা তোমার মতন কাজ করতে সারাদিন সে পারেনা
মাউস টিপে মাসল্ তোমার লোহার মত শক্ত
প্রোগ্রামেতে বাগ বেরলে মাথায় ওঠে রক্ত
খুপরি ঘরে জীবন কাটাও – কিউবিকেল নাম
দিন রাত্রি চলছে এ.সি. প্রচন্ড আরাম
গদি আঁটা চেয়ারটাতে শরীরখানা রাখো
চক্ষু রাখো মনিটরে কত কিছুই শেখো
ফেসবুক, অরকুট তোমার, আছে গুগল চ্যাট
সিস্টেমেই ফুটবল আছে, আছে ক্রিকেট ব্যাট
ক্লায়েন্ট সারভার মস্ত কারবার শুনেই মাথা ঘোরে
সি আর কোবল আবোল তাবোল পালিয়ে আয় ওরে
চা, কফি খেয়ে খেয়ে স্বাস্থ্য করলে মস্ত
ওয়ার্ড, এক্সেস, এক্সেল করলে শব্দ বিধবস্ত
চালিয়ে পি.সি, ভি.বি, ভি.সি শিখলে কত ভাষা
বাংলা ভাষাই গেলে ভুলে, ভুললে কলম পেশা
গুগল ওরিয়েন্টেড ডেভেলপমেন্ট সেইতো তোমার গড;
আউটলুকে চিঠি লিখে দমন কর বদ!!
সর্বক্ষণই সজাগ তুমি, সারাদিনই জেগে..
ভাইরাস দিয়ে হ্যাক করো, যখন যাও তুমি রেগে!!
উস্কো চুল আর খুস্কো দাড়ি চশমা ঝোলে নাকে ;
দিনের মধ্যে ২৫ ঘন্টা অফিসেতেই থাকে!!
বিল গেটসের উইন্ডোসে সর্বক্ষণ চোখ;
পেছন দিয়ে বউ পালাল সঙ্গে অন্য লোক!!
এর পরেতেও হুঁশ হল না? দিচ্ছি নাকে খত;
দাদা তোমার ক্ষুরে ক্ষুরে হাজার দণ্ডবত!!
আবোল তাবোল
পড়ে লোকেদের লেখা নির্ভুল
পেটের মধ্যে হাসি করে কুলবুল
কিন্তু বাবা হাসতে গেলে
পুলিশ থানায় পুড়বে জেলে
নিয়ম কানুন ভাঙছে কে
পুলিশকে তা বলতে গিয়ে
গলায় আওয়াজ যায় গুলিয়ে
কথায় কথা যায় জড়িয়ে
খুলতে গিয়ে সেই জট
লালবাজারে ধর্মঘট
জেলের মধ্যে আমি বসে
খিদেয় আমি মরব শেষে
এই ভেবে যেই কাঁদতে যাই
ধপাস করে আওয়াজ পাই
চোখটি খুলে দেখতে গিয়ে
ব্যথায় পড়ি হিটকি খেয়ে
স্বপ্নের ঘোরে বিছানা থেকে
মাটিতে পড়ে আছি বেঁকে
এসো রে সব দল বেঁধে
তুলে নিয়ে আমায় কাঁধে
হাসপাতালে ভর্তি করো
তারপর না হয় ফূর্তি মারো….!!
ভেল্কি বাজি
শূন্য শূন্য শূন্য
এ এক কবিতা অন্য
এক এক্কে এক
ভেল্কি বাজি দেখ
দুই দুগুণে চার
মানিস নাকো হার
তিন তিরিক্কে নয়
করিস নাকো ভয়
চার চারে ষোল
এ আবার কি হল
পাঁচ পাঁচে পঁচিশ
বেকার-ই এত ভাবিস
ছয় ছয়ে ছত্রিশ
ভেল্কি দেখে মরতিস
সাত সাতে ঊনপঞ্চাশ
বাঘ খাচ্ছে ঘাস
আট আটে চৌষট্টি
ভেল্কি শেষ সত্যি
নয় নয়ে একাশি
এবার আমি আসি….!!
ভাবনা
ভেবে ভেবে মরি
কি যে আমি করি
গলা ছেড়ে গাই
নাকি শিবের দেশে যাই
দু’পা তুলে নাচি
নাকি নাকটা টিপে হাঁচি
হামহাম গুড়িগুড়িতে স্পেশালিস্ট ভানু
বাঁশি বাজানোর পেটেন্টটাও নিয়ে গেল কানু
কবি হব এই ভেবে
লিখে যাই রাত্রি জেগে
দুয়ে দুয়ে চার
আমি পগারপার…!!
ভেবে দেখ
দুরু দুরু বুক
প্রাণ ধুকপুক
মামার বাড়ি আমি যাব
কিন্তু রাস্তা পার কেমনে হব
মানুষের থেকে গাড়ি বেশি
দেশি বা কিছু বিদেশি
ভেবে দেখ ভাই
পা রাখার জায়গা নাই
উন্নতির একি ঠ্যালা
রোড ক্রশ করতে হলাম কালা
রংটা গেল কালো হয়ে
আনলাম দূষণ বুকে বয়ে
কিন্তু মোরা খুশি সবাই
একেই তো বলে উন্নতিরে ভাই….!!
প্রকৃতি
রাতে শুয়ে আমি ভেবে ভেবে মরি
দুনিয়ায় এতো একাকিত্ব কি যে আমি করি
কাজ করে মোর কেটে যায় দিন
তাতে গড়ে ওঠা সব সম্পর্ক জেনো অর্থহীন
চোখের সামনে থাকলে পরে ‘হাই’ ‘হ্যালো’ চলে
দু’দিনের অনুপস্থিতিতে লোকে তোমায় যায় ভুলে
জীবনে কেউ চিরস্থায়ী নয়
আজ আছে কাল নেই এই মনে ভয়
ভাবতে ভাবতে আমি বাইরে এসে দেখি
ছাদের আলোয় গাছের ছায়ায় জগৎ অপরূপ সেকি
হাওয়ার সাথে ভেসে আছে জীবনের গান
নতুন উচ্ছ্বাসে উল্লসিত হয় মোর প্রাণ
বুঝে নাহি পাই আমি কেন ভাবি পাঁচ সাত
প্রকৃতির মধ্যে খুঁজে পাই মায়ের হারিয়ে যাওয়া হাত…!!!
ভালোবাসা
বসে এককোণে আমি নিজের চোখের জলেই ভাসি
ভাবছি আজ বলব আমি তোমায় কত ভালবাসি
মনে পড়ে সেই প্রথম দেখার প্রথম দিন
জানতে পারলাম যে দুনিয়া আসলে কত রঙ্গিন
ট্রেনের দোলে সেই চোখ খুলে দেখা
ভাবছিলাম এই জগতে আমি বুঝি একা
তখন দেখি তুমিও আছো সামনে জেগে বসে
তাকালে আমার পানে মিষ্টি করে হেসে
তারপর সেই মোদের মাঝে কত রকম কথা
অনর্গল বলে যেতাম, যার নেই কোনো মুন্ডু মাথা
খেলাধুলা খাওয়া দাওয়া করে কেটে যেত দিন
মনে হত তোমার সাথে আনন্দের সীমা অন্তহীন
কিন্তু মোদের মাঝে যেদিন এলো সে
সব ভালবাসা পাল্টে গেলো ঠিক একটি নিমেষে
এখন তুমি তারই সাথে সব সময় থাকো
কখনো সখনো ভুল করে তুমি আমার দিকে দেখো
আমার চোখের কান্না হয় যে ভাই এর মুখের হাসি
মাগো ভুলে যেওনা আমি তোমায় কত ভালবাসি….!!